Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Rukmini Maitra

‘ভোর সাড়ে ছ’টায় মুখ্যমন্ত্রীকে ৫ পাতার মেসেজ করি’, ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ হওয়ার নেপথ্যের কাহিনী জানালেন রুক্মিণী

'বিনোদিনীর লড়াই ছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে, তবে বিনোদিনী রুক্মিণীকে অনেক পুরুষ সাহায্য করেছে', অকপট অভিনেত্রী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৫, ১৬:০৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৫, ১৬:০৪

options
link
‘ভোর সাড়ে ছ’টায় মুখ্যমন্ত্রীকে ৫ পাতার মেসেজ করি’, ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ হওয়ার নেপথ্যের কাহিনী জানালেন রুক্মিণী zoom

২৩ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে আসছে বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ‌্যান‘। তার প্রাক্কালে একান্ত সাক্ষাৎকারে রুক্মিণী মৈত্র। শুনলেন শম্পালী মৌলিক।

একটু কি টেনসড?
– খুবই টেনসড।
টেনশনের কারণ কী? যতদূর জানি ২০১৯ থেকে ‘বিনোদিনী : একটি নটীর উপাখ‌্যান’ ছবির ভাবনা শুরু?
–  কারণ এটাই যে, ট্রেলার-গান বেরিয়েছে, সবাই খুব পছন্দ করেছে। প্রায় ৫ বছরের তপস‌্যা, ফাইনালি ২৩ জানুয়ারি আসবে ছবিটা। বড় একটা ছবি করেছি তো, অবশ‌্যই আশাবাদী যে দর্শকের ভালো লাগবে। কিন্তু তার জন‌্য হলে আসতে হবে, সেটা নিয়ে চিন্তা থাকেই।
বায়োপিকের মুখ হওয়া চাপের, তারউপর বিনোদিনীর মতো চরিত্রে। প্রস্তাব আসার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া?
–  আমি ৫ মিনিট চুপ করে গিয়েছিলাম। আমার পরিচালক রামকমল মুখোপাধ‌্যায় ভেবেছিলেন যে, আমি ফোনটা রেখে দিয়েছি। কারণ, রাম আমার খুব বন্ধু। আমার কাজ দেখে আগেও হিন্দি ছবি অফার করেছিলেন। করতে পারিনি। ২০১৯ মানে তখন অভিনয় জগতে আমার মাত্র দু’বছর হয়েছে। তখন আমাকে ফোন করে বলেন, যে বিনোদিনী করছি। আমি বলেছিলাম খুব খুশি। রাম বলেন, যে তোমার সঙ্গে করব। আমি শক্‌ড হয়েছিলাম। দর্শকও যে শুরুতে শক্‌ড হয়েছিল, তাদের ওপর আমার মান-অভিমান নেই। আমি নিজেও কোনওদিন ভাবতে পারিনি বিনোদিনী হয়ে উঠতে পারব। পরিচালক আমাকে ওর ভিশনটা বলেন। যে একজন হিরোইনের জীবনের সেলিব্রেশন করছেন। যে নারীর শক্তির, স্পর্ধার প্রতীক। ওই সময়ে দঁাড়িয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের জায়গা বানাতে পেরেছিলেন। এবং এতজন মেয়ের জন‌্য রাস্তা দেখিয়েছিলেন। উনি তো ফেমিনিস্ট আইকন। রাম বলেছিলেন ২০২০-র মোড়কে এটা বানাতে চান, মানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রায় ত্রিশ বছর আগে দীনেন গুপ্ত বিনোদিনী করেছিলেন। যে ছবিতে ছিলেন দেবশ্রী রায় এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ‌্যায়। পরবর্তী কালে প্রদীপ সরকার ‘বিনোদিনী’-র প্ল‌্যান করেন কিন্তু হয়নি। এবারে যে ছবিটা আসছে সেটা বড় স্কেলের দেখে মনে হচ্ছে। বাংলায় ফার্স্ট টাইম ডিরেক্টর রামকমল মুখোপাধ‌্যায়ের ওপর ভরসা করলেন কীভাবে?
– যে ভাবে রামকমল মুখোপাধ‌্যায় রুক্মিণীর ওপর ভরসা করেছিলেন হয়তো ঠিক সেভাবেই। বলেছিলেন, ‘আমি যেদিন ঘোষণা করব অনেক কথা হবে, কোনও কথাতেই কান দেবে না’। আর বলেছিলেন অ‌্যাক্টিং ওয়ার্কশপ সব পরে হবে। আগে কত্থক শিখতে হবে। পয়লা নভেম্বর ২০১৯ সালে আমি কত্থক শিখতে যাই।

Rukmini Maitra invited at National School of Drama for Binodiini Ekti Natir Upakhyan
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

হিন্দি গান নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে।
– সঞ্জয় লীলা বনশালি যখন ‘দেবদাস’-এ পারো আর চন্দ্রমুখীকে একসঙ্গে নাচের সিকোয়েন্সে রেখেছেন, যেটা বইতে ছিল না। ওটা হল ডিরেক্টরের ভিশন। ওইটা হিন্দি বলে কেউ সঞ্জয় লীলা বনশালিকে প্রশ্ন করছে না, যে বাংলার ঐতিহ‌্যশালী গল্প নিয়ে ‘ডোলা রে’-তে নাচিয়ে দিলেন দু’জনকে। তেমন আমিও জানতাম পরিচালকের ভিশনটা। উনি জাস্টিফাই করেছেন। রামকমল বলেছিলেন, গুর্মুখ রায় অবাঙালি ব‌্যবসায়ী, তার সামনে বিনোদিনী হিন্দি গান করবে। উনি কিন্তু ইতিহাস থেকে সরে যাননি। তবে , ২০২৫ সালের জন‌্য প‌্যালেটেবল করে দেখাতে চেয়েছেন। আমি ডিরেক্টরের ভিশনটা সম্মান করি। আর বিনোদিনী অসম্ভব আধুনিক ছিলেন। যেখানে ছেলেরা মেয়ে সেজে মঞ্চে নাটক করছে, উনি মেয়ে হয়ে মঞ্চে নাটক করে সুপারস্টার হয়েছেন এবং একসময় ছেলের ভূমিকায়, মানে শ্রীচৈতন‌্য মহাপ্রভু হয়ে মঞ্চে আসছেন। অভাবনীয়।

এই ছবির জন‌্য যখন আপনার চৈতন‌্য লুক প্রকাশ্যে আসে, ট্রোলড হয়েছিলেন। নিজেকে মোটিভেট করেছিলেন কীভাবে?
– বলে না, প্রত্যেকটা ছবি থেকে একটা টেক অ‌্যাওয়ে থাকে। আজকের দিনে যখন আমরা ভ‌্যালিডেশন-এর জন‌্য সোশাল মিডিয়া খুলে দেখি খালি, নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছি। কমেন্টস-এর ওপর ভরসা করছি। এটা কিন্তু করা উচিত নয়। আমি জানি আমি কী। বিনোদিনী যখন শ্রীচৈতন‌্যর বেশে অভিনয় করতেন, গোটা সমাজ ওঁর বিরুদ্ধে ছিল। উনি কিন্তু ওঁর কাজকেই প্রাধান‌্য দিয়েছিলেন। আমার মনোযোগও নিজের কাজেই ছিল।

সেই সময়ে অভিনেত্রী বা পারফরমারদের নামের সঙ্গে ‘দেবী’ উচ্চারিত হত, কেবল বিনোদিনীর ক্ষেত্রে বলা হত ‘বিনোদিনী দাসী’। এতটা বৈষম‌্য ছিল। ফলে তাঁর লড়াই আরও সাংঘাতিক।
– অবশ‌্যই। এতটা বঞ্চিত মহিলার লড়াই ছিল জীবনভর। তাঁকে বলা হল, থিয়েটারের জন‌্য নিজেকে দান করতে। গুর্মুখ রায়ের কাছে তাকে নিজেকে দান করতে বলা হয় ৫০ হাজার টাকার জন‌্য। বলা হল, ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ হবে তাঁর নামে। শেষমেশ থিয়েটারটা হয়ে যাওয়ার পরে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়। এবং ১৪১ বছর লেগে গেল স্টার থিয়েটার-এর ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ হয়ে উঠতে। আজকে দু’মিনিট লাগে সোশাল মিডিয়ায় নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে লিখতে। আসলে নারীর ক্ষমতায়ন কী? বিনোদিনী দেখিয়েছিলেন। ইতিহাসও কোথাও কোথাও তাঁকে মান‌্যতা দেয়নি। এবার সেই সময় এসেছে তাঁকে উদযাপন করার।

Rukmini Maitra

১৪০ বছরের অপ্রাপ্তি…
– আমাদের ছবির নাম ‘বিনোদিনী দাসী’ রাখাই যেত, কিন্তু রামের সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল যে সবাই ‘দেবী’, বিনোদিনী কেন ‘দাসী’ হবে। তাই পদবি না রেখে শুধু নামটাই রাখি আমরা।

এই ছবির রিলিজের কিছুদিন আগেই স্টার থিয়েটারের নাম বদলে ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ হল। কাজটা করার সময় বিষয়টা মাথায় ছিল?
– প্রথম দিন থেকে মাথায় ছিল। রামের সঙ্গে কথা হত যে একটা কিছু বদল আনতে হবে। অনেকেই বলেছিল, চেষ্টা করতে যদি, ওই থিয়েটার তাঁকে ফেরত দেওয়া যায়। তখন ছিল বিডন স্ট্রিটে, স্টার থিয়েটার। এখন হাতিবাগানে। ‘বিনোদিনী’র প্রোমোশন শুরুর ক’দিন আগে অন‌্য একটা ছবির কাজ চলছিল, খুব অপরাধ বোধ হচ্ছিল যে একটা চেষ্টা করব না? ভোরবেলা সাড়ে ছ’টার সময় মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়কে ৫ পাতার লম্বা মেসেজ করি। বলেছিলাম, যে এই ছবিটা তো করছি কিন্তু নারী হিসেবে আমার ঠিক লাগছে না, ওঁর জন‌্য একটা চেষ্টা করব না? বাংলার বুকে একটা অন‌্যায় হয়ে গেছে বহুদিন আগে। একজন নারীর হাতেই হয়তো সেই সম্মান ফিরে পেতে পারেন আরেকজন নারী। দিদি যদি ‘বি থিয়েটার’ বা ‘বিনোদিনী থিয়েটার’ করে দেন, তা হলে একজন নারী হিসাবে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। ইতিহাসের বদল যদি উনি করতে পারেন– এইরকম লিখেছিলাম। উনি ফোন করেছিলেন, বলেছিলেন ‘তুমি একটু সময় দাও’। আমি ভেবেছিলাম ছ’সাত মাস লাগবে। ১৪০ বছরে তো হয়নি, কত সরকার এসেছে-গেছে, সমাজ মাধ‌্যমে, থিয়েটারে এই কথা উঠেছে কিন্তু বদল হয়নি। কিন্তু দু’দিনের মাথায় দিদি ঘোষণা করেন। আমি হাউ হাউ করে কাঁদছিলাম। অসংখ‌্য ধন‌্যবাদ জানিয়েছিলাম দিদিকে।

Bengali actor Dev praises Rukmini Maitra for her Binodiini performances

বিনোদিনীর জীবনে আঘাত আর স্টারডম হাত ধরাধরি করে চলেছে। কীভাবে অ‌্যাপ্রোচ করেছিলেন চরিত্রটা?
– যেহেতু আমরা এই জগতের সঙ্গে যুক্ত ভীষণভাবে আঘাত আর স্টারডমের সঙ্গে কানেক্ট করতে পেরেছিলাম। সারাদিনই তো এটা চলতে থাকে। সালটা বদলেছে, অনুভব তো একই আছে। সোহিনী সেনগুপ্তর সঙ্গে ওয়ার্কশপ করেছিলাম, উনি ওঁর ‘আমার কথা’ বইটা পড়তে বলেছিলেন, সেটা খুব কাজে দিয়েছিল। আর শুধু বিনোদনীকে চেনা নয় ওঁর করা চরিত্রগুলোকে এবং ওঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরুষ চরিত্রগুলোকেও চেনার চেষ্টা করেছিলাম। আর অবশ‌্যই বিনোদিনীর মতো রেবেলিয়াস, লোনলি স্টারকে বুঝতে চেয়েছিলাম। ওঁর জীবন রঙিন, একইসঙ্গে যন্ত্রণাদায়ক ছিল।

‘বিনোদিনী’তে প্রযোজক হিসেবে দেবকে পাশে পেয়েছেন, ‘প্রমোদ ফিল্মস’-এর পাশাপাশি। দেবকে পাশে পাওয়ার ভালো দিক, এত বড় স্টারকে পাশে পাওয়া, সেই সঙ্গে কি মনে হয় অনেকটা আলো দেব-এর দিকে চলে যেতে পারে?
– একদমই না। আর এত বড় স্টার ভাবিনি, এত বড় মানুষ ভেবেছি। ২০২২ সালে হতাশ হয়ে ওকে এই প্রোজেক্ট-টা নিয়ে বলি। ও তখন বলে, এতদিন কেন বলিনি। আমি আসলে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। শুরুতে অন‌্য প্রযোজক ছিলেন। দেব তখন বলে এটা প্রেস্টিজ প্রোজেক্ট। আমাদের কোম্পানি থেকে হওয়া উচিত। প্রায় আশীর্বাদের মতো দেব এবং প্রতীক চক্রবর্তী এই প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হন। বিনোদিনীর লড়াই ছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে, আজকে ২০২৫-এ ‘বিনোদিনী’ রুক্মিণীকে কিন্তু অনেক পুরুষই এসে সাহায‌্য করেছে। রামকমল, দেব, প্রতীক চক্রবর্তী, সৌরেন্দ্র-সৌম‌্যজিৎ, (যারা মিউজিক করেছে)– লম্বা লিস্ট। (হাসি)

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.