Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
Devi Saraswati

সরস্বত্যৈ নমঃ, মায়ের হাতেই মাতৃবন্দনা

সরস্বতী বন্দনায় নারীকণ্ঠে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণে চক্ষু চড়কগাছ পূর্ব বর্ধমানবাসীর।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৫, ২২:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৫, ২২:১৩

options
link
সরস্বত্যৈ নমঃ, মায়ের হাতেই মাতৃবন্দনা zoom

সরস্বতী বন্দনায় নারীকণ্ঠে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণে চক্ষু চড়কগাছ পূর্ব বর্ধমানবাসীর। বিতর্ক, পুজোর পৌরোহিত্যে নারীর অধিকার নেই।

হিন্দু ‘প‌্যানথিয়ন’ (Pantheon) বা উপাস‌্য দেব-দেবীর সংখ‌্যা নাকি তেত্রিশ কোটি। দুনিয়ায় এমন কোনও খঁাটি হিন্দু আছে, যে, স্মৃতিতে ধারণ করে রেখেছে তেত্রিশ কোটি হিন্দু দেব-দেবীর নাম? আবার কেবলমাত্র বিশুদ্ধ হিন্দু হলেই হবে না, এই তেত্রিশ কোটি হিন্দু দেব-দেবীর মন্ত্র ও নামোচ্চারণের অধিকারী হতে গেলে তাকে হতে হবে হিন্দু ব্রাহ্মণ! এই প্রসঙ্গে রামমোহন রায় কেন পিতৃশ্রাদ্ধ করতে রাজি হননি, সেই কাহিনি মনে পড়ে যায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তিনি বলেন, তঁার পিতৃশ্রাদ্ধ করার যোগ‌্য ব্রাহ্মণ খুঁজে পাননি। রামমোহনের মতে, সেই-ই ব্রাহ্মণ যার ‘ব্রহ্মজ্ঞান’ হয়েছে। জন্মসূত্রে কোনও অব্রাহ্মণের যদি ব্রহ্মজ্ঞান হয়, তাহলে সে-ও ব্রাহ্মণ। রামমোহনের এই সংজ্ঞা মেনে নিলে, সারা পৃথিবীতে, বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণের সংখ‌্যা কোন তলানিতে নামবে– এসব ভেবে কাজ কী? তার থেকে বরং আসল বিষয়ে আসা যাক।

পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর ডাকঘরের কাছে শরদিন্দু রায়ের সংস্কৃত ভাষা শেখার কোচিং সেন্টার, যাকে এককালে সংস্কৃতের ‘টোল’ বলা হত। সোমবার শেখানে সরস্বতী পুজো চলছে। পুরোহিত মন্ত্র পড়ছেন মাইকে। সারস্বত অারাধনার মন্ত্রোচ্চারণ থমকে দিচ্ছে রাস্তার পথিককে। কারণ, নারীকণ্ঠে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ। ভিতরে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, পুরোহিতের আসনে সুনন্দা রায়চৌধুরী, কারণ এবার ওই কোচিং সেন্টারে সরস্বতী পুজোর থিম, ‘মায়ের হাতেই মাতৃবন্দনা’। তাই ওই কোচিংয়ের কর্তা শরদিন্দুবাবু ঠিক করেছিলেন, এ-বছর সরস্বতী পুজোর পুরোহিত হবেন নারী।

কেনই-বা নয়? পৌরাণিক যুগের ভারত তো বাক‌্য, বৈদগ্ধ, জ্ঞানের দেবতা করে কোনও পুরুষকেই ভাবতে পারত। তা না করে প্রজ্ঞার শীর্ষাসনে কেন প্রাচীন ভারত ভেবেছে নারীকেই? কেন প্রাচীন ভারতের জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধির চর্চা গড়ে উঠল যে-নদীর ধারে, সেই নদীর নামও দেওয়া হল ‘সরস্বতী’। বিশ্বাস করা হয়, গঙ্গা-যমুনার সঙ্গমস্থলে ‘ত্রিবেণী’ নাম সার্থক করে, সেই হারিয়ে যাওয়া সরস্বতী নদীর অন্তরস্রোত না কি এখনও আছে।

পৌরাণিক ভারতে যাই ঘটে থাকুক না কেন, পূর্ব বর্ধমানে মন্তেশ্বরে পুরুষ পুরোহিতদের একটি দল জোট বেঁধে বলেছে, পূজার পৌরহিতে‌্য নারীর অধিকার নেই। সুনন্দা দেবীকে সরস্বতী পূজার পৌরহিতে‌্য আহ্বান করে মন্তেশ্বরের পুরুষ পুরোহিতদের অপমান করা হয়েছে। প্রতিবাদের উত্তরে কোচিংয়ের হেড বলেছেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতি মহিলা, রাজে‌্যর মুখ‌্যমন্ত্রী মহিলা। মহিলারা দেশ, রাজ‌্য পরিচালনার কাজ করতে পারলে, পৌরোহিত‌্য করতে পারবেন না কেন?’

সুনন্দা দেবীর মজবুত উত্তর: ‘আমি বেলুড়ে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পুজোপাঠের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। বর্ধমান বিশ্ববিদ‌্যালয় থেকে সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করেছি। মেয়েরা কোথাও পুজোপাঠ করতে পারবে না, এ-কথা শাস্ত্রে লেখা নেই।’ তবু মন্তেশ্বর গ্রামের সিদ্ধেশ্বরী দেবীর সেবায়েত জয়ন্ত চক্রবর্তী আটকে আছেন প্রাচীন ধারণার অভিমানে: ‘এতে সম্মান ক্ষুণ্ণ হল বলে মনে করার জায়গা আছে।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.