Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Siliguri

মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে খুন! দলিল নিয়ে পালাতে গিয়ে শ্রীঘরে মাদকাসক্ত ‘শ্রীকৃষ্ণ’

শিলিগুড়িতে খুনের পর দলিল নিয়ে বাড়ি থেকে পালানোর সময়ে প্রতিবেশীদের হাতে ধরা পড়ে ছোট ছেলে শ্রীকৃষ্ণ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৫, ১৯:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৫, ১৯:৪০

options
link
মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে খুন! দলিল নিয়ে পালাতে গিয়ে শ্রীঘরে মাদকাসক্ত ‘শ্রীকৃষ্ণ’ zoom
প্রতীকী ছবি

অভ্রবরণ চট্টোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: দ্বাপর যুগে মা যশোদার দুঃখ মোচনে কত কী না করেছে বালক কৃষ্ণ! আর ‘ঘোর কলি’তে মাতৃভক্তি দূর অস্ত। সম্পত্তির জন্য মাকে খুনের অভিযোগে শ্রীঘরে যেতে হল শিলিগুড়ির শ্রীকৃষ্ণকে! এমনই ঘটনা ঘটেছে শিলিগুড়ির ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার দুর্গাদাস কলোনিতে। মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ছোট ছেলে বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পত্তি হাতাতে মাকে খুনের পর দলিল নিয়ে বাড়ি থেকে পালাচ্ছিল ছেলে। তখনই প্রতিবেশীরা ধরে ফেলেন তাকে। তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।

স্থানীয় সূত্রের জানা গিয়েছে, মৃতার নাম মঞ্জু মোহন্ত। ষাটোর্ধ্ব ওই মহিলার মানসিক সমস্যা ছিল। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ছোট ছেলে শ্রীকৃষ্ণ মোহন্ত ওরফে পাপাই মাদকাসক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি বিক্রি নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর অশান্তি চলছিল। মায়ের উপর তিনি অত্যাচার চালাতেন। বেশ কয়েকবার প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হলেও অশান্তির আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল। শুক্রবার দুপুরে তা একেবারে চরমে পৌঁছয়।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুপুরে বাড়িতে ঢুকে পাপাই মায়ের গলায় দড়ি পেঁচিয়ে মারধর করে। মঞ্জুদেবীর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যান ওই বাড়িতে। দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন মঞ্জু। আর মেঝে থেকে তখন রক্ত মুছতে ব্যস্ত ছেলে। প্রতিবেশীদের দেখেই বাড়ির দলিল নিয়ে পালাতে যান তিনি। তখন প্রতিবেশীরা তাকে ধরে ফেলেন। আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পাশাপাশি রক্তাক্ত মঞ্জুকে উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাপের বাড়ি আসেন মেয়ে রত্না। তিনি বলেন, ‘‘সকালেই (শুক্রবার) বাড়িতে এসে মা-ভাইকে দেখে গিয়েছি। তখন দাদা বাড়ি বিক্রি করার কথা বলেছিল। আমি ওকে বাধা দিই। বলি, বাড়ি বিক্রি করে দিলে মানসিক ভারসাম্যহীন মা ও ভাই কোথায় গিয়ে থাকবে? তখনকার মতো আর কোনও কথা হয়নি। আমি শ্বশুরবাড়ি চলে যাই। কিছুক্ষণ পর খবর পাই, মায়ের মৃত্যুর।’’ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভয়া বোস বলেন, ‘‘খুব খারাপ ঘটনা। খবর পেয়ে আমি ছুটে গিয়েছিলাম ওই বাড়িতে। মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাঁর আর এক ছেলেও মানসিক ভারসাম্যহীন। শোনা যাচ্ছে, ছোট ছেলে সম্পত্তির জন্য মাকে খুন করেছেন। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করেছে। আমরা ওঁর শাস্তি চাই।’’

প্রতিবেশী নয়ন দে-র কথায়, “চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মঞ্জুদি। ছেলে নেশা করে বেড়ায়। আমরাই দেখে রাখতাম। পাপাই রক্ত মুছছিল, তখনই আমার সন্দেহ হয়। সে দলিল পকেটে করে পালানোর চেষ্টা করে। আমিই তাকে ধরে ফেলি। তারপর পুলিশের হাতে তুলে দিই।” প্রতিবেশী মনিকা দাস জানান, “আমরা এসে দেখি চারদিকে শুধু রক্ত। তার মাঝে উনি পড়ে রয়েছেন। গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। বাড়ি বিক্রি করা নিয়েই সমস্যা ছিল।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.