Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Bangladesh

হাসিনা জমানার কুখ্যাত ‘গুমঘর’ ঘুরে দেখলেন ইউনুস, নজর ঘোরানোর হাতিয়ার আয়নাঘর?

'জুলাই অভ্যুত্থানে'র সময় যাঁরা ছাত্র আন্দলনের মুখ ছিলেন, তাঁরাও বন্দি ছিলেন এই কুঠুরিতে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫, ১৫:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫, ১৫:৪৫

options
link
হাসিনা জমানার কুখ্যাত ‘গুমঘর’ ঘুরে দেখলেন ইউনুস, নজর ঘোরানোর হাতিয়ার আয়নাঘর? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শেখ হাসিনার ‘আয়নাঘর’ নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। এই কুখ্যাত গোপন কুঠুরিতে বন্দিরা মুক্তি নয়, মৃত্যুর প্রার্থনা করতেন। বহু মানুষকে নাকি গুম করেও রাখা হত এখানে। নানা বিতর্ক রয়েছে এই গোপন বন্দিশালা বা ‘গুমঘর’ নিয়ে। ঘনিয়েছে রহস্যও। এবার মুজিবকন্যার কুখ্যাত সেই আয়নাঘর ঘুরে দেখলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। এই মুহূর্তে চরম অরাজক পরিস্থিতি বাংলাদেশে। দিকে দিকে নিপীড়িত হিন্দুরা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছতে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মুজিবের স্মৃতি। ‘জয় বাংলা’ বললে নেমে আসছে ভয়ংকর শাস্তির খাঁড়া। এই সমস্ত কিছু থেকে নজর ঘোরাতেই কি আয়নাঘরকে হাতিয়ার করেছে ইউনুস সরকার? উঠছে এমন প্রশ্নও।   

গত ৫ আগস্ট হাসিনার দেশত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন হাত ধরে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেকে। এই তালিকায় এমন কিছু মানুষও রয়েছেন যারা স্বপ্নেও কখনও ভাবেননি আবার কখনও মুক্ত পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারবেন। কারণ তাঁদের অভিযোগ, তৎকালীন হাসিনা সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দিনের পর দিন আয়নাঘরে নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। আজ বুধবার এরকমই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ইউনুস গোপন বন্দিশালা ও টর্চার সেল (নির্যাতনকেন্দ্র) পরিদর্শন করেন, যা আয়নাঘর নামে পরিচিত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মহম্মদ নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ও সাংবাদিকরাও। গোপন বন্দিশালাগুলো আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় বলেই জানা গিয়েছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আজ এই গোপন বন্দিশালার বিভিন্ন ঘর, ইলেকট্রিক চেয়ার-সহ নানা জিনিসপত্র ঘুরে দেখেন ইউনুস। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তাঁদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথাও শোনেন। প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সেসময় নাহিদ ইসলাম ও সজীব ভূঁইয়াকে সাদাপোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর তাঁদের রাখা হয় এই টর্চার সেলে। এদিন সেখানে গিয়ে ওই ঘরগুলো শনাক্ত করেন তাঁরা। যেখানে তাঁদের রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই আয়নাঘর নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, হাসিনার আমলে কেউ সরকার বা আওয়ামি লিগের বিরোধিতা করলেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হত। এই বন্দিশালায় ধৃত ব্যক্তিদের বিনা বিচারে দিনের পর দিন আটকে রাখা হত। বিভিন্ন রিপোর্ট মোতাবেক, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সরকারের বিরোধিতা করা অন্তত ৭০০ মানুষ স্রেফ গুম হয়ে যান। যদিও দাবি করা হয়, বাস্তব সংখ্যাটা এর চেয়ে আরও বেশি। বাংলাদেশের মানুষ জানতেন গুম হয়ে যাওয়া সেই সব মানুষকে রাখা হয়েছে আয়না ঘরে। তবে কোথায় এই আয়না ঘর, কেমন তার চেহারা সে বিষয়ে কোনও ধারণা ছিল না কারও।

সেসময় জানা যেত, এ এক গোপন কুঠুরি। যেখানে একবার গেলে কেউ ফেরে না। এই আয়না ঘর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর এক গোপন কুঠুরি। হাসিনা সরকারের বিরোধিতা করছেন, বা সরকারের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে এমন ব্যক্তিদের অপহরণ করে আনতেন নিরাপত্তা এজেন্সির লোকেরা। সাদা পোশাকে তাঁদের বাড়ি, অফিস, বাস, ট্রেন থেকে অপহরণ করে আনা হত। পরে সরকারি এজেন্সি তাঁদের গ্রেপ্তারের দায় সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। হাসিনা জমানায় বাংলাদেশের এই আয়না ঘর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রিপোর্টেও জায়গা করে নেয়। এমনকি রাষ্ট্রসংঘও এই আয়না ঘর নিয়ে সরকারকে সতর্ক করে।

এখান থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকের দাবি, যে ঘরে তাঁদের রাখা হত তাকে কবর বললেও কম বলা হয়। নড়াচড়ার জায়গা নেই এখানে। তবে বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হত। একইসঙ্গে চলত চরম শারীরিক নির্যাতন। চার থেকে ছয় মাস অন্তর চুল কাটা হত বন্দিদের। জেলের প্রতিটি ঘরের শেষে ছিল শৌচাগার। প্রত্যেক ঘরে থাকত বিরাট এক্সজস্ট ফ্যান। যার আওয়াজে বাইরের কোনও শব্দ শোনা যেত না। একজন মানুষকে উন্মাদ করে দেওয়ার জন্য সব রকম আয়োজনই ছিল এই জেল খানায়। হাসিনা সরকারের পতনের পর এই আয়নাঘর নিয়ে মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে ওঠে। এবার প্রকাশ্যে এল এর নানা ছবি। এই আয়নাঘর নিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জানিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেছে ইউনুস সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই হাসিনার বন্দিশালা নিয়ে এত মাতামাতি করছেন ইউনুস। যাতে নির্বাচনের আগে এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে আওয়ামি লিগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। 

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.