Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Mother Tongue

ভাষা-স্বাচ্ছন্দ্য

এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু উন্নতির সমান সুযোগ পাবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৫, ১৪:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৫, ১৪:১১

options
link
ভাষা-স্বাচ্ছন্দ্য zoom

মাতৃভাষা বা সাবলীল ভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। গৃহীত হোক বহুভাষিক শিক্ষানীতি। মানোন্নয়ন ঘটুক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু, তাদের ভাষাগত পটভূমি নির্বিশেষে উন্নতির সমান সুযোগ পাবে।

‘ভাষা’ কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জ্ঞান-বিকাশের মৌলিক অভিমুখও। বেশিরভাগ মানুষ যে-ভাষায় সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল, তা হল, তার মাতৃভাষা। তবে, ক্রমবর্ধমান অভিবাসন এবং শরণার্থী সংকটে চলা বিশ্বে, বহুভাষিকতা, লক্ষ-লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে একটি বাস্তব সমস্যা হয়ে উঠছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রকাশিত ‘ইউনেস্কো’-র ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং’ (জেম) টিমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন– ‘ল‌্যাঙ্গোয়েজ ম‌্যাটার: গ্লোবার গাইডেন্স অন মাল্টিলিঙ্গুয়াল এডুকেশন’-এর রিপোর্টে এই বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক বিষয় যে, বিশ্বব্যাপী ৪০ শতাংশ শিশু তাদের মাতৃভাষায় বা যে-ভাষায় তারা সাবলীল, তাতে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায় না। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে এই পরিস্থিতি আরও গুরুতর, যেখানে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত শিশু এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশ্বব্যাপী ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে তা প্রভাবিত করে। এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে যে, ভাষাগত চ্যালেঞ্জের কারণে ৩ কোটি ১০ লক্ষরও বেশি তরুণ অভিবাসী শিক্ষার্থী শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য, এবং শিক্ষাগত সমতা বৃদ্ধির জন্য বহুভাষিক শিক্ষানীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর রিপোর্ট তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষায় মাতৃভাষার ভূমিকাটি শুধুমাত্র আবেগের নয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, শিক্ষার প্রাথমিক বছরগুলিতে শিশুকে তার মাতৃভাষায় শেখানো হলে সে সবচেয়ে ভালভাবে শিখতে পারে। এটি জ্ঞান-বিকাশকে সহজতর করে, সাংস্কৃতিক পরিচয়কে শক্তিশালী করে, এবং শেখার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।

দুর্ভাগ্যবশত, ‘জেম’ রিপোর্ট উল্লেখ করেছে, মাতৃভাষায় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সীমিত রয়ে গিয়েছে। এর কারণ শিক্ষকদের মধ্যে মাতৃভাষায় দক্ষতার অভাব, অপর্যাপ্ত শিক্ষাদানের উপকরণ এবং কিছু ক্ষেত্রে, সম্প্রদায়ের নিজস্ব প্রতিবন্ধকতা। এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলার জন‌্য বহুভাষিক শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা প্রয়োজন। তার জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, একাধিক ভাষায় শিক্ষাগত সম্পদের উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়-সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। জেম রিপোর্ট দেখিয়েছে যে, ভাষাগত বাধা বিশ্বব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই ব্যবধান গড়ে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় স্তরেই জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন। ভাষা কেবল শিক্ষার মাধ্যম নয়, বরং প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। মনে রাখতে হবে, মাতৃভাষা বা সাবলীল ভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা কেবল শিক্ষাদানের প্রশ্ন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু, তাদের ভাষাগত পটভূমি নির্বিশেষে উন্নতির সমান সুযোগ পাবে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.