Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
Mauritius

চৈনিক চাল ভেস্তে দিতে ভারত মহাসাগরের ‘হৃদয়’ জয়! কেন মোদির ‘পাখির চোখ’ মরিশাস?

মরিশাসে বন্দর তৈরি করেছে ভারত, যেখানে রয়েছে ভারতের নৌসেনার জাহাজ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৫, ১৯:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৫, ১৯:২০

options
link
চৈনিক চাল ভেস্তে দিতে ভারত মহাসাগরের ‘হৃদয়’ জয়! কেন মোদির ‘পাখির চোখ’ মরিশাস? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কোনও অস্ত্র বা যুদ্ধ নয়, শুধুমাত্র কৌশলগত অবস্থান যে কোনও শত্রুকে মুহূর্তে কয়েকশো কদম পিছনে ফেলে দিতে পারে। ভারত ও মরিশাসের আত্মীয়তা আসলে সেই কৌশলগত অবস্থানের এক অনন্য নজির। ভারত মহাসাগরে বাড়তে থাকা আগ্রাসনের মাঝেই চিনের চোখে চোখ রেখে ভারত মহাসাগরের ‘হৃদয়’ জয় নরেন্দ্র মোদির। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর মরিশাস সফর ও সেখানকার প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলামের তরফে মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা আসলে সেই বার্তাই দিল বিশ্বকে।

২০১৫ সালের পর দ্বিতীয়বার বন্ধু দেশ মরিশাস সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় দিবস উদযাপনে প্রধান অতিথি হিসেবে এই দেশে আমন্ত্রিত মোদি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে মরিশাসের গুরুত্ব অপরিসীম। সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনীতি, বাণিজ্য তো বটেই চিনা আগ্রাসন রুখতে ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তার দিক থেকেও মরিশাসের গুরুত্ব বিশাল। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ মরিশাস।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভারতকে ঘিরে ফেলতে চৈনিক চাল

সাগরে ভারতকে ঘিরে ফেলতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে চিন। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে পর পর সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করছে লালফৌজ। সমর বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’ বা মুক্তোর মালা।

ভারত মহাসাগর আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের তৈল ভাণ্ডারের দুই-তৃতীয়াংশ, প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩৫ শতাংশ, ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ, সোনা ৪০ শতাংশ এবং হীরার ৮০ শতাংশ মজুদ রয়েছে উপকূলীয় দেশগুলি। তা ছাড়া ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মালাক্কা প্রণালী, হরমুজ প্রণালী, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপে শিকড় জমিয়ে ভারতকে সাগরপথে ঘিরে ফেলতে চাইছে লালফৌজ। এই সমরনীতিকেই নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’। অবশ্য, পালটা দিতে তৈরি ভারতও। লালফৌজের চাল ভেস্তে দিতে নিজস্ব মুক্তোর ফাঁস তৈরি করছে দিল্লি। শ্রীলঙ্কা, শেচেলস, মালদ্বীপ ও মরিশাসে অস্তিত্ব আরও মজবুত করে বেজিংয়ের উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির মরিশাস সফরের গুরুত্ব অপরিসীম।

মরিশাসের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগ
মরিশাসে বসবাসকারী ৭০ শতাংশ মানুষের শিকড় ভারতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভারতের সঙ্গে মরিশাস গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘবছর ভারতের মতোই ইংরেজদের অধীনে ছিল এই দেশটি। মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে যাওয়ার পথে ১৯০১ সালের নভেম্বরে মরিশাসে গিয়েছিলেন। সেখানে ইংরেজদের শোষণ এবং দরিদ্র ভারতীয়দের সমস্যাগুলির কাছ থেকে দেখেন। দরিদ্র ভারতীয়দের কাছে প্রয়োজনের বন্ধু হয়ে ওঠেন তিনি।

ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা
অসাধারণ সুন্দর সমুদ্র সৈকতের দেশ মরিশাস ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরের হৃদয় হিসেবে দেখা হয় মরিশাসকে। ভৌগোলিক দিক থেকে এই দ্বীপরাষ্ট্রের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত মহাসাগরে বাড়তে থাকা চিনা আগ্রাসনের মাঝে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি নিশ্চিতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সে কথা মাথায় রেখেই ২০১৫ সালে প্রথমবার এই দেশে সফর করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিপুল সাহায্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, মহাকাশ-সহ নানা ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি করা হয়। এমনকী মরিশাসে বন্দর তৈরি করে ভারত। যেখানে রয়েছে ভারতীয় নৌসেনার জাহাজ। যা সমুদ্রে কোনওরকম অপরাধ তো বটেই, চিনা আগ্রাসনকে রুখে দিতে সদা প্রস্তুত।

অর্থনীতি
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের পর মরিশাস ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারও বটে। ২০২১ ও ২০২২ সালে এই দেশে বিরাট বিনিয়োগ করে ভারত সরকার। ২০২১ সালে এই দেশের সঙ্গে একাধিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি করে ভারত। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সহজ করে তুলতে করা হয় একাধিক পদক্ষেপ। গত এক দশকে ভারত প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এই দেশে। গত এক দশকে ১.১ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে মেট্রো ও অন্যান্য পরিকাঠামো খাতে। ৭২৯ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ও নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ৪২৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সাহায্য করা হয়েছে ভারতের তরফে।

বিপদের বন্ধু
বর্তমানে মরিশাস-ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন, নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসিওরেন্স কর্পোরেশন, টেলিকমিউনিকেশনস কনসালটেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড, ইন্ডিয়ান অয়েল (মরিশাস) লিমিটেড, মহানগর টেলিফোন (মরিশাস) লিমিটেড, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (মরিশাস)-সহ ১১ টি ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রয়েছে এই দেশে। মরিশাসের বিপদে সর্বদা বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তা সে করোনার সময় ভ্যাকসিন হোক বা গত বছরের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়।

প্রতিরক্ষা
বর্তমানে দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অনেক বেশি অগ্রসর হয়েছে। সমুদ্রপথে আফ্রিকার বাণিজ্যের জন্য মরিশাস হল গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেদিক থেকেও মরিশাসের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশটির সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান চুক্তি সম্পন্ন করেছে ভারত। সমুদ্র পথে মাদক পাচার রুখতে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO এবং মরিশাস রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন কাউন্সিল যৌথ উপগ্রহ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষরও করেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য তথ্যের আদান-প্রদানের চুক্তি রয়েছে ভারত ও মরিশাসের।

 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.