সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় এসে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার মুখ খুললেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। স্বামীকে হত্যার অভিযোগে সোনম রঘুবংশী গ্রেপ্তারের পর রীতিমতো ক্ষোভ উগরে তিনি জানালেন, ”এই ঘটনায় আমাদের সরকার ও আমাদের রাজ্যের বদনাম করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কেউ মেঘালয়ের বাসিন্দা নয়। এখন আমাদের যা করা উচিত সেটাই করব।”
গত ১৯ মে সোনমের সঙ্গে বিয়ে হয় রাজা রঘুবংশীর। ২০ মে মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয়ে ঘুরতে যান নবদম্পতি। ২৩ মে চেরাপুঞ্জিতে পৌঁছান তাঁরা। সেখানেই নিখোঁজ হয়ে যান দম্পতি। এই ঘটনার ১১ দিন পর জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার হয় যুবকের দেহ। তবে খোঁজ মিলছিল না তাঁর স্ত্রী সোনমের। এই পরিস্থিতিতে দাবি করা হয়, রাজাকে খুনের পর তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে। স্থানীয় দুষ্কৃতীদের দিকে ডাকাতির ও অপহরণের অভিযোগ তোলে মৃতের পরিবার। তদন্তে নামে মেঘালয় পুলিশ। এই ডামাডোলের মাঝেই সোমবার সকালে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেপ্তার হন সোনম রঘুবংশী। তদন্তে নেমে মেঘালয় পুলিশের তরফে জানানো হয়, তাঁর প্রেমিক রাজ কুওয়াহার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে ভাড়াতে খুনিদের সাহায্যে স্বামীকে খুন করেছেন সোনম। রাজের সঙ্গে যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অভিযুক্ত পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এই ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্য অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। এবং আমরা পর্যটকদের সম্মান করি। যা ঘটেছে তা একেবারেই ঠিক নয়। আমরা ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অভিযুক্তদের সকলকে মেঘালয়ে নিয়ে আসা হবে। এর পর আইনি পথে আমাদের যা যা করনীয় তা করব।”
উল্লেখ্য, দম্পতি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বারবার আঙুল উঠেছে মেঘালয়ের দিকে। সোনম এবং রাজা দু’জনের পরিবারই মেঘালয় সরকারকে দুষেছে। সোমবার অবশেষে সোনম গ্রেপ্তার হওয়ার পর পালটা সুর চড়িয়েছেন মেঘালয়ের মন্ত্রী আলেকজান্ডার লালু হেক। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে মেঘালয়ের সরকার সর্বোপরি মেঘালয়ের মানুষকে দোষ দেওয়া হচ্ছিল। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে আমাদের পুলিশ অসাধারণ কাজ করেছে, ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে।” মেঘালয়ের মানুষকে এইভাবে দোষারোপ করার জন্য মানহানির মামলা দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।