সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাত্র ৩০ সেকেন্ড। তাতে সবশেষ। এয়ার ইন্ডিয়া এআই১৭১ দুর্ঘটনায় স্বজনহারাদের হাহাকার, কান্নায় ক্রমশ ভারী হচ্ছে বাতাস। সদ্য বিবাহিতা মেয়েকে হারিয়ে হাসপাতালের সামনে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রাজস্থানের মদন সিংহ।
সদ্য বিয়ে হয়েছিল। লন্ডনে চিকিৎসক স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন রাজস্থানের তরুণী খুশবু। বাবা তাঁকে বিমানবন্দরে ছেড়ে আসেন। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান অবতরণের পরই স্বামী তাঁকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাবেন বলে কথা ছিল। নতুন সংসার তৈরির স্বপ্ন নিয়ে বিমানে বসেছিলেন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনো হল না।
রাজস্থানের বালোত্রা জেলার বাসিন্দা খুশবু সিং। ২ মাস আগে লন্ডনে চিকিৎসক বিপুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামী ফিরে গেলেও, ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করে যান খুশবু। সেই ছাড়পত্র পাওয়ার পরই বুধবার রাতে আহমেদাবাদ পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন বাবা ও এক আত্মীয়। নির্ধারিত সময়ে বিমানে গিয়ে বসেন। খুশবু বিমানবন্দরের ভিতরে যাওয়ার পর তাঁর বাবা মেসেজে লেখেন, ‘লন্ডনে যাচ্ছ, নতুন জীবন। আর্শীবাদ রইল।’

মেয়েকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসছিলেন তাঁরা। তখনই আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের মাথায়। খবর আসে মেয়ে যে বিমানে উঠে বসেছেন, তা ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় যান তাঁরা। কিন্তু কোথায় কী? পুড়ে ছাই বিমান। ধ্বংসস্তূপে পরিণত এলাকা। এখন মেয়ের দেহ চিনতে করতে হবে ডিএনএ পরীক্ষা।
দুর্ঘটনাস্থলের আধভাঙা আবাসনে এখনও আটকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। আবাসনে দেওয়ালে কালো পোড়া দাগ। বাতাসে পোড়া গন্ধে মিশছে কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা।