সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সব ঠিক থাকলে এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু চোটের অজুহাতে মহম্মদ শামিকে (Mohammed Shami) বাদ দিয়েই ইংল্যান্ডে উড়ে গিয়েছে ভারতীয় দল। আর প্রথম ম্যাচে শুভমান গিল ব্রিগেড যে তাঁকে মিস করেছে, সেটা কারও অজানা নয়। বোলিং এবং ফিল্ডিং বিভাগের দুর্বলতাতেই লিডসে টেস্ট হারতের হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে। শামি নিজেও মনে করছেন, প্রথম টেস্টটা সহজেই জেতা উচিত ছিল ভারতীয় দলের। কিন্তু বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের দোষে জয় অধরা থেকে গিয়েছে।
শামি মনে করছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে যে সব পেসারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাঁরা কেউই বুমরাহকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছেন না। মহম্মদ সিরাজ, শার্দূল ঠাকুর এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ তারকা পেসার। একই সঙ্গে তিনি ক্ষুব্ধ যশস্বী জয়সওয়ালের ফিল্ডিং দেখেও। এক সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে (IND vs ENG) হার নিয়ে শামি বলে দিয়েছেন, “অন্য বোলারদের বুমরাহের কাছ থেকে শিখতে হবে। একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করতে হবে। বাকিরা বুমরাহকে সাহায্য করতে পারলে সহজেই ম্যাচটা জেতা যেত।”
শামির বক্তব্য, “দ্বিতীয় ইনিংসে শার্দূল ও প্রসিদ্ধ দুটো করে উইকেট নিয়েছে বটে, কিন্তু তার আগেই ম্যাচ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের নতুন বলে উইকেট নিতেই হবে। আর সেই কাজটা বুমরাহ ছাড়া আর কেউ করতে পারছে না। একা বুমরাহের উপর ভরসা করলে হবে না। ও একা কত করবে?” হেডিংলি টেস্টে যেভাবে জয়সওয়াল একের পর এক ক্যাচ ছেড়েছেন, সেটারও সমালোচনায় সরব শামি। তাঁর সাফ কথা, “এই পর্যায়ে এত ক্যাচ ছাড়লে কিছু হয় না। আমাদের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে ভাবতে হবে। বুমরাহকে সাহায্য করতে হবে।”
লিডসে ভারতের বোলারদের মধ্যে একা বুমরাহ ছাড়া কেউই পাতে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে তাঁর পাঁচ উইকেটের সুবাদেই লিড পায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য উইকেট পাননি তিনি। দু’ইনিংস মিলিয়ে তাঁর মতো পাঁচ উইকেট নিয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও (৩/১২৮ ও ২/৯২)। কিন্তু এই দু’ইনিংসে প্রসিদ্ধর ইকোনমি রেট যথাক্রমে ৬.৪০ এবং ৬.১০। বাকিদের অবস্থা আরও খারাপ। ফলে বুমরাহ না থাকলে ভারতীয় বোলিংয়ের হাল কী হবে, সহজেই অনুমেয়। শামি যদি এই মুহূর্তে স্টুডিয়োতে বসে না থেকে ইংল্যান্ডে থাকতেন, তাহলেও হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারত।