সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও রকম আলোচনায় আগ্রহী নয় ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। জানালেন, আমেরিকা আমাদের পরমাণু স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলেছে। এর সঙ্গেই সমস্ত আলোচনার রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
১২ দিনের যুদ্ধে শেষে ক্ষণিকের স্বস্তি দেখা গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই প্ররিস্থিতিতে বার বার ট্রাম্পের তরফে দাবি করা হয়েছে, শীঘ্রই ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘাচি বলেন, “পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কোনও প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি। এমনকি পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে কোনও কথাও হয়নি।” একইসঙ্গে তিনি জানান, “আমাদের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলেছে আমেরিকা। ওদের এই সামরিক অভিযান পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলবে।”
উল্লেখ্য, বারাক ওবামার আমলে ইরানের উপর থেকে দীর্ঘ দিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল আমেরিকা। যদিও ২০১৫ সালের সেই চুক্তি বাতিল করে ফের নিষেধাজ্ঞা চাপান ট্রাম্প। নতুন করে পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয় ট্রাম্পের তরফে। তবে সেখানে যে সব শর্ত দেওয়া হয় তাতে সরাসরি আপত্তি জানায় ইরান। অতঃপর ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে আমেরিকার প্রবেশ ও বোমা হামলায় নয়া পরমাণু চুক্তির রাস্তায় বেঁকে বসল খামেনেইয়ের দেশ।
এদিকে সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে রায় দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। যার জেরে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যকলাপ চলছে কিনা, সে বিষয়ে আর IAEAর নজরদারির আওতাধীন থাকবে না ইরান। উল্লেখ্য, IAEA থেকে বেরিয়ে এসে ইচ্ছামতো পরমাণু বোমা তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে এবার কি তবে সেই পথে হাঁটবে ইরানও?