সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আইপিএলের পর বেঙ্গালুরুর পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকেই দায়ী করল সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (ক্যাট)। তাদের সাফ বক্তব্য উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়াই জনসমাবেশের ডাক দিয়েছিল আরসিবি। ক্যাটের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, ‘পুলিশ কোনও জাদুকর নয়’। সেই সঙ্গে কর্নাটক সরকার দ্বারা আইপিএস অফিসার বিকাশ কুমারের বরখাস্তের আদেশেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
আরসিবি আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গত ৪ জুন, বেঙ্গালুরুতে বিজয়োৎসব হয়েছিল। কিন্তু তাতে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে, আহত হয়েছিলেন অনেকে। ট্রাইব্যুনালের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তিন থেকে পাঁচ লক্ষ জড়ো হওয়ার জন্য আরসিবি’কেই দায়ী করা হয়েছে। পুলিশ বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এত বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সোশাল মিডিয়াতেও সেই নিয়ে পোস্ট করা হয়েছিল। যেহেতু সময় কম ছিল, তাই পুলিশ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
যেভাবে শেষ মুহূর্তে আরসিবি সেলিব্রেশনের ডাক দিয়েছিল, তা চূড়ান্ত ‘অব্যবস্থা’ তৈরি করেছিল বলে মত ট্রাইব্যুনালের। ১২ ঘণ্টার মধ্যে যে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা আশা করা উচিত নয়। ট্রাইব্যুনালে স্পষ্ট বলছে, “পুলিশরা মানুষ। তারা জাদুকর নয়। তাদের কাছে আলাদিনের জাদুপ্রদীপ নেই যে, যা চাইবে তাই পাওয়া যাবে।” আইপিএল শেষ হয় ৩ জুন। সেদিন রাতে বেঙ্গালুরুতে স্বতঃস্ফূর্ত জনতার ঢল নেমেছিল। পুলিশকে সেটাও সামলাতে হয়েছে। আবার পরদিন, অর্থাৎ ৪ জুন বিধানসৌধে কর্নাটক সরকারের অনুষ্ঠান ও চিন্নাস্বামীতে সেলিব্রেশন দুদিকই সামলাতে হয়েছে পুলিশকে।
পুলিশ চেয়েছিল ৯ জুন গোটা অনুষ্ঠানটি করতে। সদ্য আইপিএল জয়ের পরদিনই ওই অনুষ্ঠান করলে আবেগের বশবর্তী হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমাতে পারে, সেই আশঙ্কার কথা পুলিশ জানিয়েছিল। তাতে আরসিবি’র প্রবল আপত্তি ছিল। কারণ আইপিএল পিছিয়ে দেওয়ায় দ্রুত বিদেশি ক্রিকেটারদের ছেড়ে দিতে হবে। পুলিশকর্তাদের দাবি ছিল, ফ্র্যাঞ্চাইজির অনড় মনোভাবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিন্নাস্বামীর অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু রোড শো বাতিল করা হয়। কিন্তু সেটা আবার আরসিবির তরফে ঘোষণা করা হয়নি। উলটে চিন্নাস্বামীর মূল অনুষ্ঠানের ঘণ্টা দুয়েক আগেও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ওই বিজয় শোভাযাত্রা হবে বলে ঘোষণা করা হয়। টিকিট সংখ্যা সীমিত, তাও আবার বিনামূল্যে। তার মধ্যে ওই পোস্টের জন্যও অনেক মানুষ জমায়েত করেন বেঙ্গালুরুর রাস্তা এবং স্টেডিয়ামের বাইরে। আর সেই চূড়ান্ত অব্যবস্থার ফলেই ১১ জন সমর্থক প্রাণ হারান।