সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে একসঙ্গে ৩ শত্রুর মোকাবিলা করতে হয়েছে ভারতকে। পাকিস্তানকে সরাসরি অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে চিন ও তুরস্ক। রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি করলেন ভারতীয় সেনার ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং। তিনি জানিয়েছেন, ভারত-পাক সংঘাতের আবহে পাকিস্তানকে নিজেদের অস্ত্রের পরীক্ষাগার হিসাবে ব্যবহার করেছে চিন।
ভারতীয় সেনার শীর্ষকর্তার কথায়, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের বিরুদ্ধে সামনে থেকে হয়তো শুধু পাকিস্তানই লড়ছিল। কিন্তু পিছন থেকে দুটি দেশ সরাসরি পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে। একটি চিন এবং দ্বিতীয়টি তুরস্ক। শুক্রবার ফিকি আয়োজিত এক সভায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং বলেছেন, ‘‘আমাদের সামনে সীমান্ত হয়তো একটাই ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল আসলে তিন জন। পাকিস্তানই সামনে ছিল। কিন্তু তাদের সবরকমভাবে সাহায্য করেছে চিন ও তুরস্ক।”
সেনার ডেপুটি প্রধানের অভিযোগ, পাকিস্তানকে চিন শুধু সাহায্য করছিল তা-ই নয়। চিন আসলে ওই সংঘাতকে নিজেদের অস্ত্রের পরীক্ষাগার হিসাবে ব্যবহার করেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংয়ের কথায়, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যে যে অস্ত্র ব্যবহার করেছে, সেগুলির ৮১ শতাংশই চিনের সামগ্রী দিয়ে তৈরি। অস্ত্রও চিনের। আসলে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের অস্ত্রের শক্তিপরীক্ষা করে নেয় চিন। ওরা পাকিস্তানকে নিজেদের অস্ত্রের লাইভ ল্যাব (পরীক্ষাগার) হিসাবে ব্যবহার করছিল।” সেনার ডেপুটি প্রধান বলছেন, আসল চিন ঘুরিয়ে ভারতকে আঘাত করার চেষ্টা করছিল। নিজেরা সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও ‘ধার করা ছুরি’ দিয়ে ভারতের রক্তপাত ঘটানোর চেষ্টা করেছে চিন।
চিন তো হল তুরস্ক কীভাবে সাহায্য করল ভারতকে? সেনার ডেপুটি প্রধান বলে গেলেন, “পাকিস্তানকে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল তুরস্কও। ওরা পাকিস্তানকে অজস্ত্র ড্রোন দিয়ে সাহায্য করেছে।” ভারতীয় সেনার শীর্ষকর্তা স্বীকার করে নিচ্ছেন, ভারতের এয়ার ডিফেন্স আরও শক্তিশালী করা দরকার। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের সব জনবসতিপূর্ণ এলাকাকে সুরক্ষিত করা যায়নি বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ডিজিএমও স্তরের আলোচনা চলছিল, আমাদের অনেক খবর পাকিস্তান পেয়ে যাচ্ছিল চিন থেকে।”