সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদীদের রুখতে সীমান্তে কড়া প্রহরা। এই অবস্থায় ভিন্ন পথে ভারতে ঢুকে হামলার ছক কষছে জঙ্গিরা। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন নেপালের রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা সুনীল বাহাদুর থাপা। এই ইস্যুতেই জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতাও। তাঁর বার্তা, ভারতের মাটিতে জঙ্গি হামলার নেপথ্যে থাকা একাধিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবার জঙ্গি হামলা চালাতে নেপালের পথ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে উপস্থিত হয়েছিলেন সুনীল বাহাদুর। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের একাধিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন যাদের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যেমন, লস্কর ই তইবা, জইশ ই মহম্মদ নেপালকে নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ভারতে জঙ্গি হামলা চালাতে নেপাল হয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এই সংগঠনের জঙ্গি সদস্যরা। তার সন্দেহ যে একেবারেই অমুলক নয়, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় তার প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ২০১৩ সালে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লস্কর জঙ্গি আবদুল করিম টুন্ডাকে। ভারতে অন্তত ৪০টি বোমা হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল এই জঙ্গি।
এর পাশাপাশি ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসিন ভাটকলকে ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার করেছিল নেপাল পুলিশ। তাকে তুলে দেওয়া হয় ভারতের হাতে। গত বছরের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করে দুই পাক জঙ্গিকে। এরা হলেন মহম্মদ আলতাফ ভাট, সৈয়দ গজনফার ও নাসির আলিকে। চলতি বছরের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলা চলে সেই হামলাকারীদের মধ্যে একজন নেপালি ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাগুলি মাথায় রেখে ও গোয়েন্দা তথ্যে ভিত্তিতে ওই আন্তর্জাতিক সেমিনারে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে হাতে হাত রেখে লড়াইয়ের বার্তা দেন ভারত ও নেপালের আধিকারিকরা। এনআইআইসিই-এর পরিচালক প্রমোদ জয়সওয়াল জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর হল পাকিস্তান। এরা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অর্থের যোগান দেয়। পাশাপাশি ওই মঞ্চ থেকে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের প্রশংসা করেন নেপালের প্রাক্তন মন্ত্রী শিশির খানাল-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। ওই সেমিনারে ভারতের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় যৌথ টহলদারির পক্ষে মত দেন আধিকারিকরা।