সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে ‘ওয়ানাক্রাই, পেটিয়া’-র মতো র্যানসমওয়্যার বা কম্পিউটার ভাইরাস। চলতি বছরই এমন হামলার মুখে পড়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের একাধিক রাজ্য। সতর্কতা জারি করা হয় কেন্দ্রের তরফে। কে বা করা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে? তা নিয়ে চলে প্রবল জল্পনা। এবার সেই জল্পনায় ইতি টেনে হামলাকারীর পর্দাফাঁস করল আমেরিকা।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১৫০টি দেশে এই হামলার মূলচক্রী একনায়ক কিমের উত্তর কোরিয়া। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট আধিকারিক টমাস বসার্ট। এর আগে এমন অভিযোগ উঠলেও, হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রথম পিয়ংইয়ংকে দায়ী করল ওয়াশিংটন। সাইবার হামলার জন্য গতমাসে কিমের দিকে আঙুল তুলেছিল ব্রিটেনও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাপে রয়ে কমিউনিস্ট দেশটি। ব়্যানসমওয়্যার হামলায় আমেরিকা-সহ শতাধিক দেশ কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির সন্মুখীন হয়। তবে কিমের দিকে আঙুল তুললেও মার্কিন কার্যপন্থা সম্বন্ধে স্পষ্ট কিছু বলেননি বসার্ট। নির্দিষ্ট কোনও পদক্ষেপের কথা না বলে তিনি জানান, কিমকে রোখার জন্য তৎপর হয়েছে আমেরিকা।
[ফিল্মি কায়দায় বাইক তাড়া করে ‘শাহরুখ’কে ধরল পুলিশ]
র্যানসমওয়্যার বা কম্পিউটার ভাইরাস যার মাধ্যমে হ্যাকাররা কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার কম্পিউটার সিস্টেমের সমস্ত ফাইল হ্যাক করে সেটা লক করে দেয়। ফলে, ব্যবহারকারী ওই কম্পিউটার আর ব্যবহার করতে পারেন না। ফাইল খোলা বা আনলক-এর জন্য মোটা রকমের ‘মুক্তিপণ’ চাওয়া হয়। একমাত্র ‘র্যানসম’ বা মুক্তিপণ মেটানো হলে তবেই কম্পিউটার ফের সচল করা হয়। জানা গিয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় মুক্তিপণের পরিমাণ প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা।
কীভাবে এই হামলা প্রতিহত করা যায়, সে বিষয়ে জানিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান কম্পিউটার এমারজেন্সি রেসপন্স টিম’(সিইআরটি)। যদি মেলের সাবজেক্টে ‘ডকুমেন্টস’, ‘ফোটো’, ‘প্লিজ প্রিন্ট’, ‘স্ক্যানস’, ‘পিকচার্স’ এবং ‘ইমেজস’-এর মতো কোনও সাধারণ ও পরিচিত শব্দ থাকে তা হলে সেই মেল না খোলাই ভাল। তবে শুধু ওই শব্দগুলোই নয়, হ্যাকাররা অন্য ভাবেও কম্পিউটার সিস্টেমে হামলা চালাতে পারে। তাই কোনও রকম সন্দেহজনক মেল দেখলেই সেটাকে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ‘সিইআরটি’। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের প্রতিদিন ব্যাক আপ নিয়ে রাখার কথাও জানিয়েছে সার্ট। লকির হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন সংস্থাকে অ্যান্টি-স্প্যাম সফটওয়্যার ইনস্টল করতে এবং স্প্যাম-লিস্ট আপডেট করতে পরামর্শ দিয়েছে তারা।
চলতি বছরই সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল একাধিক বহুজাতিক সংস্থা, ওষুধ নির্মাণকারী সংস্থা এমনকী, আমেরিকার কয়েকটি হাসপাতালের কম্পিউটার ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছিল। ভারতও ওই সাইবার হামলা থেকে রেহাই পায়নি। মে মাসে বিশ্বের শতাধিক দেশে হামলা করেছিল কম্পিউটার ভাইরাস ‘ওয়ানাক্রাই র্যানসমওয়্যার’। ‘ওয়ানাক্রাই’-এর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে ভারত ছিল তিন নম্বরে।
[র্যানসমওয়্যার’ হানা তিরুপতিতেও, ত্রাহি ত্রাহি রব মন্দিরে]