অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: মাঝপথে থমকাল নবান্ন অভিযান। হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিল থমকাল তেলকল ঘাট রোডে। সেখানেই চলছে অবস্থান বিক্ষোভ। সেখানে মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী। এখানেই বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করবেন আন্দোলনকারীরা। তবে মিছিলকারীদের উদ্দেশে বারবার পুলিশ ঘোষণা করেছে, এই জমায়েত বেআইনি। আন্দোলনকারীরা যেন সরে যান। কিন্তু পুলিশের কথায় কর্ণপাত না করে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় অবস্থান শুরু করেন।

শুধু তাই নয়, হাওড়া স্টেশন থেকে কয়েকহাজার মানুষ মিছিল করে আসেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন নবান্নের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে আটক করেছে শিবপুর থানার পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যৌথ মঞ্চ, সরকারি কর্মচারী পরিসর পশ্চিমবঙ্গের মতো একাধিক সংগঠন ও মঞ্চ নবান্ন অভিযানের ডাক দেয়। মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ী সংগঠনের মামলার ভিত্তিতে জমায়েতের উপর কলকাতা হাই কোর্ট আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুধু তাই নয়, হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে এই নবান্ন অভিযানের কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় নবান্ন অভিযানকারীরা।
বেআইনি জমায়েত রুখতে প্রায় ২ হাজার পুলিশ মোতায়েন। তিনটি জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মিছিল ও জমায়েতের উপর নজরদারি রাখতে হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে প্রায় ১০টি ড্রোন রয়েছে। আন্দোলনকারীদের রুখতে হাওড়া শহরের তিনটি মূল জায়গায় বসানো হয় লোহার ভারী ব্যারিকেড। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নবান্নে ঢোকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবান্নের দিকে যাওয়ার শহরের মূল তিনটি প্রবেশপথকে সোমবার সকাল থেকেই বড় বড় লোহার ব্যারিকেড দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন রেল মিউজিয়াম, ফরশোর রোডের রামকৃষ্ণপুর ঘাট গেট ও জি টি রোডের বঙ্গবাসী মোড়ের কাছে বসানো হয়েছে লোহা ও কংক্রিটের ব্যারিকেড। একইসঙ্গে শিবপুর কাজিপাড়ার মোড় ও নবান্নর কাছেও ব্যারিকেড করার জন্য বড় বড় লোহার গার্ডরেলও রয়েছে।
