সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে কৃষিক্ষেত্রে কর্পোরেটাইজেশন হতে বাধ্য। এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে সারা ভারত কৃষক সভা। এবার এক রিপোর্টে উঠে এল অন্য আরেক ছবি। সেখানে দাবি করা হয়েছে, যদি সেপ্টেম্বরের পরও ওই শুল্ক চাপানোই থাকে, সেক্ষেত্রে দেশের বৃদ্ধির হার নামবে ৬.২ শতাংশেরও নিচে। এসঅ্যান্ডপি মার্কেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের দাবি এমনই।
ওই সংস্থার দাবি, জুলাইয়ে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যা ছিল ৬.৫ শতাংশ। আমেরিকার চাপানো ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হলে এই পূর্বাভাসটি কমিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা সেপ্টেম্বরের পরও লাগু থাকে। সেই সঙ্গেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারত কোনওভাবেই কৃষি, দুগ্ধ-সহ খাদ্য উৎপাদন ক্ষেত্র আমেরিকার হাতে দেবে না। কেননা সেক্ষেত্রে দেশের কৃষিজীবীরা ক্ষুণ্ণ হবে। ফলে আমেরিকাও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে তেমন সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।
নানা জটিলতায় আটকে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হয়নি ভারতের। উলটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে প্রচুর তেল এবং অস্ত্র কেনে। সেকারণেই ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হল। প্রসঙ্গত, বছরের গোড়ায় আমেরিকা সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জানিয়ে দিয়েছিলেন ভারত আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাস কিনবে ওয়াশিংটনের থেকে। আসলে শুল্কে ছাড়ের লক্ষ্যেই মোদির এই আশ্বাস- এমনটাই মনে করে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। কিন্তু এরপরও ভারতের তেলের প্রধান আমদানিকারী দেশ ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ রাশিয়াই। এতেই চটেছে আমেরিকা। আর তাই তারা চাপিয়ে দিয়েছে ২৫ শতাংশ শুল্ক। আপাতত সেই আলোচনাই এদেশের কূটনৈতিক মহলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এর মধ্যেই প্রকাশিত হল সাম্প্রতিক রিপোর্টটি।