নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: যেন নতুন প্রাণশক্তির সঞ্চার! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা হতেই সংসদে চনমনে দল। বিহারের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন এবং বাংলা ভাষার অপমান ইস্যুতে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করতে প্রায় প্রতিদিনই জোরালো স্বরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তৃণমূল। এবার কংগ্রেসও তৃণমূলের সঙ্গে জোটে সমন্বয়ে আগ্রহ বাড়ানো শুরু করেছে।
সোমবারই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হিসাবে অভিষেকের নাম ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অসুস্থ সুদীপ নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকতে পারছিলেন না। চলতি বাদল অধিবেশনে তাঁকে এক দিনও সংসদে দেখা যায়নি। ফলে বিক্ষোভ দেখালেও দলের সাংসদরা ‘নেতা’র অভাব বোধ করছিলেন। কিন্তু অভিষেক দায়িত্ব নিতেই সেই সমস্যা মিটে যায়। মঙ্গলবারই তিনি ভার্চুয়াল ভাষণে বাংলা ও বাঙালিদের অপমান-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংসদে সরব হতে আহ্বান জানান। তারপর থেকে লাগাতার সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেছে বাংলার শাসকদল।
লোকসভার দলনেতা হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারই দিল্লিতে যাচ্ছেন অভিষেক। তার আগে অভিষেকের নির্দেশেই বাংলা-বাঙালি ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। হাতে বাংলার মনিষীদের ছবি-সহ বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার। সঙ্গে বাংলা ভাষার অপমান নিয়ে স্লোগান এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিনের ওই বিক্ষোভে যোগ দেয় কংগ্রেসও। শুধু সংসদের বাইরের বিক্ষোভ নয়, সংসদের অন্দরেও তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় চাইছে প্রধান বিরোধী দল। এদিন বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা নিয়ে সংসদের দুই কক্ষেই মূলতুবি প্রস্তাব দেয় হাত শিবির। সেটাও বস্তুত তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় গঠনের লক্ষ্যেই।
বৃহস্পতিবার সংসদে গিয়ে দলের সাংসদদের সঙ্গে আগামী দিনের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা। দুপুর ৩টেয় সংসদ চত্বরেই ওই বৈঠক হবে। বৃহস্পতিবারই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেও যোগ দেবেন অভিষেক। জোটের অন্য নেতাদের মধ্যে অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে, তেজস্বী যাদবরা উপস্থিত থাকবেন। ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলা-বাঙালি ইস্যুতে সমন্বয় বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিহারের SIR নিয়েও আলোচনা হবে। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন নিয়েও তৃণমূলই বিরোধীদের মধ্যে সবার আগে সরব হয়। তারপর থেকে ওই ইস্যুতে সরব অন্য বিরোধীরাও। সূত্রের খবর, আগামী দিনে তৃণমূলের দেখানো পথেই এগোতে পারে ইন্ডিয়া জোট।