সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম রায়ের সমালোচনা করায় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে ‘বেওয়ারিশ’ বলে আক্রমণ করলেন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক রাজ পুরোহিত। তাঁর কটাক্ষ, ”রাহুল নিজে বেওয়ারিশ তাই পথকুকুরদের প্রতি এত দরদ।” বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে।
দিল্লির রাস্তার পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম রায়ের পালটা মুখ খুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। এই প্রেক্ষিতেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রদেশের ওই বিজেপি নেতা রাহুলকে তোপ দেগে বলেন, “পথ কুকুরদের নিয়ে শীর্ষ আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে রাহুল গান্ধীর মতো একজন বড় নেতা, অথবা আমি বলব রাহুল গান্ধী একজন বেওয়ারিশ নেতা। ওনার কোনও কাজ নেই। উনি বেওয়ারিশ, তাই বেওয়ারিশ কুকুরদের নিয়ে পড়ে রয়েছেন।” একইসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “দেশে কি আর কোনও সমস্যা নেই? ওনার কাছে কি আর কোনও ইস্যু নেই ? আজ লোকজন ওনাকে দেখে হাসে কারণ ওনার কোনও অস্তিত্ব নেই, বেওয়ারিশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”
দিল্লিতে পথকুকুরদের কামড়ে জলাতঙ্ক এবং তার জেরে আমজনতার মৃত্যু- দুটোই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, এই সংক্রান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই সোমবার শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দিল্লি-এনসিআর এলাকার সমস্ত পথকুকুরকে অবিলম্বে ধরতে হবে। তাদের নির্বীজকরণ করিয়ে পাঠাতে হবে নিরাপদ আশ্রয়ে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতটা প্রয়োজন বলপ্রয়োগ করে পথকুকুরদের ধরতে হবে। কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হবে। শীর্ষ আদালতের মতে, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশে ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা। সরব হন রাহুল গান্ধীও।
সম্প্রতি রাহুল তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মানবিকতার পথ থেকে সরে এসে সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুরদের নিয়ে এই নির্দেশ দিয়েছে। এই অবলা প্রাণীগুলিকে সমস্যা বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। আশ্রস্থল, নির্বীজকরণ, টিকাদান এবং কমিউনিটি কেয়ারের মাধ্যমে নিষ্ঠুরতা ছাড়াই রাস্তাঘাট নিরাপদ রাখা সম্ভব।’ উল্লেখ্য, কংগ্রেস সাংসদ এবং তাঁর পরিবার বরাবরই পশুপ্রেমী হিসাবে পরিচিত। ২০১৭ সালে সমাজমাধ্যমে তিনি তাঁর পোষ্য সারমেয় ‘পিডি’কে দেখিয়েছিলেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। ২০২৩ সালে রাহুল তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীকে একটি সারমেয় উপহার দেন। যার নাম ‘নুরি’। সেই ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে।