সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বেনজির! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে। মোদি বললেন, “১০০ বছর ধরে একই রকম নিষ্ঠা এবং সমর্পণের সঙ্গে দেশের সেবা করে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। দেশগঠনে সংঘের ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
এ বছর শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে আরএসএসের। তার আগে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “দেশের দরকারে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে সংঘ। ১০০ বছর ধরে নিষ্ঠা-সমর্পণের সঙ্গে দেশসেবা করে চলেছে আরএসএস। সংঘের ইতিহাস আমাকে গর্বিত করে। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।”
এর আগে আর কোনও প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে এভাবে কোনও সংগঠনের প্রশংসা করেছেন কিনা সংশয় রয়েছে। মোদি নিজেও গত ১১ বছরে অন্তত সরকারি মঞ্চে সংঘ ছোঁয়াচ এড়িয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এবার লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠা শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সংঘের প্রশংসা করলেন সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভুলে গেলে চলবে না অতীতে একাধিকবার এই আরএসএসকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কংগ্রেস সরকার। এমনকী এক মার্কিন সংস্থা সংঘকে অতীতে ‘উগ্রপন্থী’ সংগঠন হিসাবেও বর্ণনা করেছে। লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে মোদির মুখের এই স্তুতি সংঘকে ‘শাপমুক্ত’ করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের জন্যও সংঘের এভাবে প্রশংসা করাটা তাৎপর্যপূর্ণ। বেশ কিছুদিন ধরেই সংঘের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের, বিশেষ করে মোদি-শাহের সঙ্গে আরএসএসের দুরত্বের একটা জল্পনা শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অবসর’ নিয়েও একটা গুঞ্জন উঠছে। খোদ সরসংঘ প্রধান মোহন ভাগবত ঘুরিয়ে বলে দিয়েছেন, “৭৫ বছর বয়স হওয়া মানে ধরে নিতে হবে বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে।” পঁচাত্তরের মুখে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর আরএসএসের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী হয়তো সংঘের প্রতি নিজের আনুগত্যের বার্তাই দিয়ে গেলেন। বোঝাতে চাইলেন, সংঘের আদর্শ মেনেই এগোবেন তিনি।