সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শুক্রবার কলকাতা মেট্রোর তিনটি নতুন রুট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এই উদ্বোধন প্রশ্নহীন নয়। উদ্বোধনের সময় ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি তরজা। এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঁচটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল তৃণমূল।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, যে প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য কলকাতায় এসেছেন মোদি, তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে যে পাঁচ প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাখা হয়েছে তার মধ্যে শুরুতেই রয়েছে লোকসভায় পেশ হওয়া বিলের প্রসঙ্গ। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, “আপনাদের কোন অধিকার আছে এই দমনপীড়নের যে বিলটা আনার যেখানে আপনাদের নেতারাই অভিযুক্ত এবং এজেন্সিগুলো আপনাদের হাতে অপব্যবহার হচ্ছে।” এর আগেও বহুবার বিজেপি-র বিরুদ্ধে ইডি এবং সিবিআই-এর মত সংস্থাকে অপব্যবহারের অভিযোগ করেছে তৃণমূল। সেই ইস্যুকেই আরেকবার উসকে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের রেশ টেনে ভুয়ো ভোটার নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্ন রেখেছেন কুণাল। তিনি বলেন, “যদি আপনারা এইভাবে ভোটার লিস্টকে ভুয়ো বলেন তার উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হয়ে আছেন আপনি নিজে এবং আপনার সরকার। তাই আগে ভোটার লিস্টের স্বার্থে আপনারা ইস্তফা দিন, লোকসভা ভেঙে দিন তারপর ভোটার লিস্ট হয়ে নতুন সরকার হবে না কেন?”
প্রধানমন্ত্রীকে পাঁচটি প্রশ্ন। pic.twitter.com/135PLnOt9w
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) August 22, 2025
এরপরে বাংলাদেশি এবং বাংলা ভাষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, “দিল্লি পুলিশ যা বলছে বাংলাদেশি মানে তারাই হচ্ছে বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশি ভাষা। বাংলা ভাষাকে এত বড় অপমান আপনারা সমর্থন করেন? বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশি ভাষা এই বক্তব্যের নিন্দা কেন করেননি প্রধানমন্ত্রী?”
বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদ করে চতুর্থ প্রশ্নে কুণালের, “বাংলায় কথা বলছে যে ভারতবাসী, তাদেরকে বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন হয়রান হতে হচ্ছে? কেন তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এর জবাব কে দেবে?”
সব শেষে ফের একবার কেন্দ্রের কাছে থাকা রাজ্যের বকেয়ার ইস্যু তুলে ধরে তাঁর প্রশ্ন, “আপনি কী জানেন বাংলার আর্থিক বকেয়া এখন আপনার কাছে ১ লক্ষ ৯৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেন খালি হাতে আসছেন? বাংলার টাকা কেন দিচ্ছেন না? কেন শুধুমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোকে ভরিয়ে দিচ্ছেন? কেন প্রতিহিংসাপরায়ণভাবে বাংলার টাকা আটকে রেখেছেন?