হেমন্ত মৈথিল, অযোধ্যা: শ্রীরামের জন্মভূমি অযোধ্যা এবার এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছে। দীপাবলির আগেই সেখানে শুরু হতে চলেছে এক বিশাল দীপ উৎসব। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বছর ২৬.১১ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্য স্থির করেছেন। এর জন্য মোট ২৮ লক্ষ প্রদীপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই মহাযজ্ঞ সফল করতে প্রায় ৩২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। ১৯শে অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘রাম কি পৌড়িতে’ এই বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। লেজার লাইট শো এবং পরিবেশ-বান্ধব আতশবাজির ঝলকানি এবারের উৎসবের নয়া আকর্ষণ।
এই বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। অযোধ্যার এডিএম যোগেন্দ্র পাণ্ডে এই উৎসবের প্রধান নোডাল অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন দফতরের ২০ জন নোডাল অফিসার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রেখেছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খলভাবে উৎসব পরিচালনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। রাম কি পৌড়িতে বিশেষ নকশা তৈরি করে প্রদীপ সাজানো হবে। এই সজ্জাপ্রস্তুতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে রামায়ণের গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনা। প্রদীপ জ্বালাতে সরিষার তেল ও পরিবেশ-বান্ধব উপাদান ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সকেত মহাবিদ্যালয় থেকে আয়োজন করা হয়েছে এক সুবিশাল শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রায় ব্যবহার করা ১১ ট্যাবলোতে রামায়ণের বিভিন্ন পর্ব ফুটিয়ে তোলা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। শোভাযাত্রাটি সকেত মহাবিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে রাম কথা পার্ক পর্যন্ত যাবে। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ও ভক্ত এই উৎসবে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে রামলীলার মঞ্চায়নও হবে বলে জানা গেছে। গত বছর সরযূ নদীর তীরে সম্মিলিত সরযূ আরতির বিশ্ব রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। এবারও সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জেলা শাসক নিখিল তিকারাম জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে এই উৎসবে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য মেডিক্যাল টিমও প্রস্তুত থাকবে। রাম কি পৌড়ি ও তার আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে একটি বিশেষ টিম অভিযান চালাবে।
এক নজরে দীপ উৎসবের প্রদীপের সংখ্যা
২০১৭: ১.৭১ লক্ষ
২০১৮: ৩.০১ লক্ষ
২০১৯: ৪.০৪ লক্ষ
২০২০: ৬.০৬ লক্ষ
২০২১: ৯.৪১ লক্ষ
২০২২: ১৫.৭৬ লক্ষ
২০২৩: ২২.২৩ লক্ষ
২০২৪: ২৫ লক্ষ