সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সোমবার এসসিও বৈঠকের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একাধিক ইস্যুতে আলোচনার পাশাপাশি পুতিনকে ইউক্রেন সমস্যার সমাধান করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বার্তা দেন মোদি। জানান, “আমি আশাবাদী এই যুদ্ধ শেষ করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে রাশিয়া-ইউক্রেন।” ‘নোবেল লোভী’ ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর ব্যর্থ চেষ্টার মাঝে ভারতের এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প কার্ড’ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই যুদ্ধের দায় ভারতের উপর চাপিয়েছে আমেরিকা। এমনকী রুশ তেল কেনায় ভারতের উপর চাপানো হয়েছে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক। আমেরিকার এই পদক্ষেপ ভারত ও চিনের মধ্যে বন্ধুত্বকে দৃঢ় করেছে। চিনে এসসিও বৈঠকে মোদি-জিনপিং-পুতিনের ছবি বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে এক নয়া সমীকরণের। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার আলাদাভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদি। সেখানেই যুদ্ধ থামিয়ে শান্তির উদ্দেশে পদক্ষেপের জন্য পুতিনকে বার্তা দেন মোদি। বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনও গঠনমূলক পদক্ষেপকে ভারত স্বাগত জানায়। মানবতার খাতিরে এই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত স্থায়ী শান্তির উপায় খুঁজে বের করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে যুদ্ধে মেতে রয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে দুই তরফেই যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধ থামিয়ে নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি ট্রাম্প। যদিও শান্তির নোবেল পাওয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ খুব বিশেষ আশার আলো দেখেনি। পাশাপাশি পরিস্থিতি ক্রমশ যে পথে এগোতে শুরু করেছে তাতে ‘যশ লোভী’ ট্রাম্পের উপর খুব একটা আস্থা রাখতে পারছেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও। রাশিয়ার দীর্ঘ বছরের হৃদ্যতার সম্পর্ক ভারতের। সে কথা মাথায় রেখে পুতিনকে থামাতে ভারতের দ্বারস্থ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। বিষয়টিতে ভারত যাতে অগ্রসর হয় সে প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ জেলেনস্কি। একাধিকবার এই ইস্যুতে মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। এহেন পরিস্থিতির মাঝে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধ থামানোর বার্তা আসলে ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প কার্ড’ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে চিনের তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউক্রেন সংকট মেটাতে চিন ও ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করেন পুতিন। পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো যাচ্ছে না বলে যে অভিযোগ আমেরিকা করেছে তা খারিজ করেন পুতিন। বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো আর পশ্চিমি দুনিয়া হস্তক্ষেপের জন্যই এই যুদ্ধ শুরু হয়। এমনকি লাগামছাড়া মার্কিন শুল্কের তীব্র নিন্দা করেন পুতিন।