সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই মুহূর্তে চৈনিক জনতার অন্যতম চর্চার বিষয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত শাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশনের সামিটে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। হাতে হাত রেখে বন্ধুত্বের পরিচয় দেন বিশ্ব রাজনীতির দুই অন্যতম ব্যক্তিত্ব। হাসিমুখে তাঁরা শুভেচ্ছা জানান, হাত মেলান, একে অপরকে জড়িয়েও ধরেন। এমনকি এক গাড়িতেও পাশাপাশি দেখা গিয়েছে মোদি-পুতিনকে। সেই সব ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে রীতিমতো চর্চা রয়েছে চিনেও। সে দেশের সার্চ ইঞ্জিন ‘বাইডু’র ট্রেন্ডলিস্টের শুরুতেই রয়েছে মোদি-পুতিন সখ্যতা। একটি সরকারি সংবাদমাধ্যমের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বিষয়টি জানানোও হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নরেন্দ্র মোদির জন্য প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। তারপর দু’জনে একসঙ্গে এসসিও কনফারেন্স থেকে বেরিয়ে যান। সোমবার এসসিও বৈঠকের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। তারই মাঝে দুই রাষ্ট্রনেতার বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক হয়। দু’জনের আলোচনা যে ফলপ্রসু হয়েছে তা নিজের এক্স হ্যান্ডেলেই জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
একাধিক ইস্যুতে আলোচনার পাশাপাশি পুতিনকে ইউক্রেন সমস্যার সমাধান চেয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বার্তা দেন মোদি। জানান, “আমি আশাবাদী এই যুদ্ধ শেষ করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে রাশিয়া-ইউক্রেন।” যুদ্ধ থামাতে ‘যশ লোভী’ ট্রাম্পের ব্যর্থ চেষ্টার মাঝে ভারতের এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প কার্ড’ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই যুদ্ধের দায় ভারতের উপর চাপিয়েছে আমেরিকা। এমনকী রুশ তেল কেনায় ভারতের উপর চাপানো হয়েছে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক। আমেরিকার এই পদক্ষেপ ভারত ও চিনের মধ্যে বন্ধুত্বকে দৃঢ় করেছে। চিনে এসসিও বৈঠকে মোদি-জিনপিং-পুতিনের ছবি বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে এক নয়া সমীকরণের। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার আলাদাভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদি। সেখানেই যুদ্ধ থামিয়ে শান্তির উদ্দেশে পদক্ষেপের জন্য পুতিনকে বার্তা দেন মোদি। বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনও গঠনমূলক পদক্ষেপকে ভারত স্বাগত জানায়। মানবতার খাতিরে এই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত স্থায়ী শান্তির উপায় খুঁজে বের করতে হবে।”