রঞ্জন মহাপাত্র, দিঘা: বড়দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রায় দু ‘লক্ষ পর্যটকের ভিড় জমেছে পর্যটন শহর দিঘায়। সেইসঙ্গে ভিড়ের চোটে পা ফেলার জায়গা নেই মন্দারমণি ও তাজপুর পর্যটন কেন্দ্রে। সপ্তাহান্তে শনি ও রবিবারের ছুটির সঙ্গে সোমবার বড়দিনের ছুটি যোগ হয়েছে। এদিকে বড়দিনের পরেই সমস্ত অফিস খুলে যাচ্ছে। তাই এবার বড়দিনের আগেই শুক্রবার থেকে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকেরা।
ভিডিও: রঞ্জন মহাপাত্র
শনিবার সকালে প্রচুর পর্যটক হোটেলের ঘর না পেয়ে সারাদিন সমুদ্রপাড়ে বেড়িয়ে আবার ফিরে গিয়েছেন। একদিকে বড়দিনের ছুটি, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সৈকত উৎসব এবং উইন্টার কার্নিভ্যাল। সৈকত শহরে দুই উৎসব এবারের ছুটিতে দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওনা হয়ে উঠেছে। সৈকত উৎসবে যেমন নামী প্রকাশন সংস্থার বই কিনতে পারবেন, তেমনই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি জিনিসপত্রও কিনতে পারবেন। তাছাড়া হস্তশিল্পের মেলায় হাজির হয়ে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ফুড ফেস্টিভ্যালে রয়েছে সামুদ্রিক মাছের তৈরি বাহারী পদ। অপরদিকে উইন্টার কার্নিভ্যালে বিদেশি শিল্পীদের দ্বারা অনুষ্ঠান। সঙ্গে থাকছে বাহারী খাওয়ার ব্যবস্থা, ট্যাটু করার ব্যবস্থা। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য দেবব্রত দাস জানান, ছুটিকে কেন্দ্র করে দিঘা সহ পর্যটনকেন্দ্র গুলিতে ভিড় জমেছে। প্রায় সব হোটেলেরই ঘর বুকিং হয়ে গিয়েছে। হোটেলে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কথা শোনা গেলেও কোনও অভিযোগ না জমা পড়ায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
ভিডিও: শুভময় মণ্ডল
আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গোয়ার আদলে দিঘায় শুরু হয়েছে ‘উইন্টার কার্নিভ্যাল-২০১৭’। বড়দিন ও বর্ষবিদায়ের ছুটিকে কেন্দ্র করেই এমন কার্নিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৯ দিনের এই কার্নিভ্যালে থাকছে রেড কার্পেট, তানুরা ড্যান্স, ক্রিয়েটিভ ড্যান্স, অ্যানি আহমেদ কনর্সাট, ডিজে, ফায়ার ড্যান্স, ক্যান ক্যান ড্যান্স, ড্রাগন ড্যান্স, ফায়ার ড্যান্স, রাশিয়ান কার্নিভ্যাল শো, সান্টা ড্যান্স, বেলে ড্যান্স, ফ্যাশন শো, ডিজে জুলিয়া ব্লিজ,রিনোউন্ড ফরেন ডিজে নিনা সুয়েট্,রাশিয়ান ব্যালেট,রাশিয়ান ড্যান্স,সংঙ্গীতশিল্পী অনুপম রায়, সোমলতা, ফসিলস সহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের শিল্পীদের সম্মীলিত অনুষ্ঠান। দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের সহযোগিতায় লা-ফিয়েস্তিয়া নামক সংস্থা এই কার্নিভ্যালের আয়োজন করছে। নিউ দিঘায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই কার্নিভ্যাল। অনুষ্ঠানের দিনগুলিতে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের ব্যাবস্থা থাকছে। টিকেটের বিনিময়ে এই অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। তবে টিকিটের বিনময়ে অনুষ্ঠান দেখার পাশাপাশি থাকছে নৈশ ভোজের ব্যবস্থাও। সেইসঙ্গে গোয়ার আদলে ৩১ডিসেম্বর রাতে বর্ষবরনের অনুষ্ঠানও রাখা হয়েছে।
মূলত দিঘাকে দেশিয় ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে। এদিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে দিঘা, তাজপুর, মন্দারমনি পর্যটন কেন্দ্রে রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে ‘বেঙ্গল বীচ ফেস্টিভ্যাল’-র আয়োজন করা হয়েছে। চলবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সব মিলিয়ে ১২দিন ধরে সৈকত শহর দিঘা উৎসবে মেতে উঠেছে। দিঘার দুটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরানো দিঘা থেকে নতুন দিঘা পর্যন্ত বাহারি আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। গোয়ার সৈকতে যারা অনুষ্ঠান করেন তেমনই বেশকিছু শিল্পী এই প্রথমবার দিঘায় আসবেন কার্নিভ্যালে যোগ দিতে। এই দুই উৎসবের টানে পর্যটন শহরে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।
[বড়দিনে ফিরল ঠান্ডা, মনোরম পরিবেশে উৎসবমুখর বাঙালি]