সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত পাকিস্তানের বালোচিস্তান। মঙ্গলবার সকালে সেনা শিবিরে হামলার পর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় এক রাজনৈতিক সভায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। যাঁদের বেশিরভাগেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। জোড়া হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা মোট ২৬।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, বালোচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরদার আতাউল্লা মেঙ্গালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল শহরের এক স্টেডিয়ামে। সেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আতাউল্লার পুত্রও। সভা শেষে বের হওয়ার সময় স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভয়ংকর বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৮ জনের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে এটি আত্মঘাতী হামলা। তবে কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মঙ্গলবার রাতে এই হামলার আগে সকালে আর একদফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল উত্তর-পশ্চিম কাশ্মীরের বান্নু অঞ্চলে। সেখানে আধাসেনার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় জঙ্গিরা। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে ধাক্কা মারে সেনা শিবিরের দেওয়ালে। প্রবল বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে যায় সেনাঘাঁটির দেওয়াল। এরপর ভেতরে ঢুকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় আর এক জঙ্গি। এই হামলায় মৃত্যু ১২ জনের। পালটা প্রায় ১২ ঘণ্টার গুলির লড়াইয়ে ৬ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে গত কয়েক দশক ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বালোচিস্তানের বিদ্রোহীরা। গত বছর থেকে সেই দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বেড়েছে। পালটা দাঁত-নখ বের করেছে পাক সেনাও। এ বছর জানুয়ারি মাস থেকেই প্রায় ৪৫০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বালুচিস্তানে, যাঁদের অধিকাংশই নিরাপত্তাকর্মী। অন্যদিকে, ট্রেন হাইজ্যাকের পাশাপাশি লাগাতার চলছে আত্মঘাতী হামলা। পালটা পাক সেনার বিরুদ্ধে বালোচিস্তানের সাধারন নাগরিকদের বেছে বেছে অপহরণের অভিযোগ উঠছে।