সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ যে গলছে সে ইঙ্গিত গত কয়েকদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। এবার শুল্ক জটিলতা কাটার পথে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেল দুই দেশ। মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার পরই ফোনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পালটা ‘বন্ধু’ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদিও।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ধন্যবাদ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেছেন, ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে আমেরিকা যে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সেটাকে সমর্থন করবে। এদিন সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা, “ধন্যবাদ, প্রিয় বন্ধু আমাকে ফোন করে ৭৫তম জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়ার জন্য। আপনার মতো আমিও ভারত-আমেরিকার এই ব্যাপক এবং বৈশ্বিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে যে উদ্যোগ আপনি নিয়েছেন, আমরা সেটাকে সমর্থন করি।”
Thank you, my friend, President Trump, for your phone call and warm greetings on my 75th birthday. Like you, I am also fully committed to taking the India-US Comprehensive and Global Partnership to new heights. We support your initiatives towards a peaceful resolution of the…
— Narendra Modi (@narendramodi) September 16, 2025
তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এই সোশাল মিডিয়া পোস্টের কিছু সময় আগেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রকের তরফে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার কথা জানানো হয়। সোমবারই ভারতে এসেছেন আমেরিকার অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডন লিঞ্চ। মঙ্গলবার বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয় তাঁর। বৈঠক শেষে দু’দেশের তরফেই জানানো হয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। তারপরই ট্রাম্পের ফোন মোদিকে এবং প্রধানমন্ত্রীর সোশাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানানো। পুরো বিষয়টি ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ দরজার আড়াল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে লাগাতার আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনা সফল হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে দু’তরফ থেকেই। হোয়াইট হাউসের অধীশ্বর হওয়ার পরই বিশ্বব্যাপী শুল্কযুদ্ধের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় বাদ ছিল না ভারতও। সব মিলিয়ে বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপান তিনি। যদিও ঘরোয়া বাজারে চাপের মুখে সুর নরম করেছে আমেরিকা। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে যেতে চাইছে দুপক্ষই।