সুব্রত বিশ্বাস: ‘মেঘ কালো, আঁধার কালো আর কলঙ্ক যে কালো….।’ কলঙ্কের অধ্যায় আর রাখতে চায় না রেল। তাই এবার টিটিইদের উর্দি থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে কালো রং। ব্রিটিশ জমানায় চালু সেই রং ক্রমশ বিবর্ণ হয়েছে মানুষের চোখে। তার থেকে কালো উর্দি আরও বেশি কুড়িয়েছে বদনাম। কালো কোট মানেই ঘুষের বহর। আতঙ্কের হাতছানি। এই বদনাম ঘোচাতে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী লোহানি, টিকিট পরীক্ষকদের কালো কোটের ইউনিফর্ম বদলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অবিলম্বে প্রিমিয়াম, রাজধানী, দুরন্ত ও শতাব্দী এক্সপ্রেসে নতুন ইউনিফর্ম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
[সাবধান! বছর শেষেই বাতিল হয়ে যাবে এই ব্যাঙ্কগুলির চেক বই]
নতুন এই ইউনিফর্ম হবে সাদা ফুলশার্ট, গ্রে কালারের কোটের উপর তিনটি গোল্ডেন কালারের ‘সোয়ার্ন’ স্ট্রিপ। ট্রেন সুপারদের ক্ষেত্রে, দু’টি স্ট্রিপ টিটিইদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোটের পকেটে রেলের লোগো থাকবে। গ্রে কালারের প্যান্ট, গ্রে কালারের ওয়েস্ট কোটের বুকে থাকবে লোগো। পকেটে গোল্ডেন কালারের পাইপিং। সঙ্গে লাল রংয়ের টাই-তে থাকবে রেলের লোগো।
রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী লোহানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, টিকিট পরীক্ষকরা রেলে ফ্রন্টলাইন স্টাফ। সবার আগে জনসংযোগ রক্ষা করেন এঁরাই। রেলের সম্পর্কে যাত্রীদের ধারণা স্পষ্ট হয় টিকিট পরীক্ষকদের পোশাক পরিচ্ছদ আর ব্যবহারের মাধ্যমে। আগে ‘দর্শনধারী’ হতে হবে টিকিট পরীক্ষকদের। দর্শনেই ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে। কালো কোট অতি ব্যবহার ও অবৈধ কাজকর্মে যুক্ত হয়ে পড়ায় যাত্রীদের মনে কালো কোট নিয়ে একটা খারাপ ধারণা জন্মে গিয়েছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন আনতেই টিকিট পরীক্ষকদের ইউনিফর্ম বদল করার সিদ্ধান্ত রেলের।
[‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বললেই কড়া শাস্তি, নিদান বালাজি মন্দিরের পুরোহিতের]
বছর খানেক আগে ফ্যাশান ডিজাইনার রিতু বেরিকে রেলকর্মীদের নয়া পোশাক নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচিত পোশাকের আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু পোশাকের রংয়ের পরিবর্তন নয়, পাশাপাশি টিকিট পরীক্ষকদের আচরণবিধিও শেখানো হবে। স্মার্ট দেখানোর সঙ্গে আচরণের মেলবন্ধন ঘটিয়ে রেলকর্মীদের সম্পর্কে উন্নত ধারণা তৈরি করতে এই বিধি বলে বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে।
[টেক অফের আগে বিমানের ইঞ্জিন থেকে বেরল জ্বালানি, ছড়াল চাঞ্চল্য]