সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের তামিলনাড়ুর সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০০ জনেরও বেশি সমর্থক আহত হয়েছে। কারুরের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে তাঁর উপর আক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সেই সঙ্গেই বিজয়ের মিছিলে পদপিষ্টের ঘটনার পরে রাজ্যের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন শাহ। পাশাপাশি পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় রাজ্যের কাছে পুর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার বিজয়ের তীব্র সমালচনা করেছে। তাঁদের দাবি সমাবেশের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছেন তিনি। যার জেরেই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে আয়োজকরা পানীয় জল এবং খাবারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করেননি। এর ফলে ভিড়ের মধ্যে বহু মানুষ জ্ঞান হারান।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের আক্ষেপ, তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এর আগে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এত মানুষের প্রাণ যায়নি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থনা, আগামী দিনে যেন আর এমন দুর্ঘটনা না ঘটে। সোশাল মিডিয়ায় বিজয় লিখেছেন, “আমার হৃদয় বিদীর্ণ। শোকপ্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার যে সব ভাই-বোনেদের প্রাণ গিয়েছে তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। যারা আহত হয়েছেন তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।” মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করবে সরকার। আহতদের প্রত্যেককে চিকিৎসার জন্য দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা।
এই ঘটনায় কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন তিনি। বিচারপতি অরুণা জগদীশন ওই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।