Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Kakdwip BJP worker

কাকদ্বীপে কালীমূর্তি ভাঙায় ধৃত ‘বিজেপি কর্মী’, জেরায় ‘দোষ স্বীকার’ অভিযুক্তের

কেন প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল কালী মূর্তি, ব্যাখ্যা দিল পুলিশ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৮:৫৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৮:৫৩

options
link
কাকদ্বীপে কালীমূর্তি ভাঙায় ধৃত ‘বিজেপি কর্মী’, জেরায় ‘দোষ স্বীকার’ অভিযুক্তের zoom
প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, ডায়মন্ডহারবার: কাকদ্বীপে কালীমূর্তি ভাঙায় গ্রেপ্তার বিজেপি ও সক্রিয় আরএসএস কর্মী! এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের।  সেই ব্যক্তি নারায়ণ হালদার পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন যে মদ্যপ অবস্থায় তিনি এই জঘন্য কাজটি করেছেন। বস্তুত বুধবারই মূর্তি ভাঙার বিষয়টি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে রাজনৈতিক রং লাগান বিজেপি বিধায়ক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই বিজেপির পক্ষে বিষয়টি বুমেরাং হয়ে ফিরল।

স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক বিষ’ ছড়ানোর পরিকল্পনাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি আক্রমণ করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপি এটায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রং চড়াল। শেষে দেখা গেল বিজেপির যুব মোর্চার নারায়ণ হালদার নামে একজন। এই ঘটনা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় সে ঘটিয়েছে নাকি ঘটানো হয়েছে সেটা দেখা হবে। বিজেপির তরফে কেউ এ জিনিস ঘটিয়েছে কি না সেটাও দেখতে হবে।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মঙ্গলবার গভীর রাতে কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চন্দননগর নস্করপাড়ায় কালীমূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ যায়। কমিটির কর্তারা পুলিশকে জানান, ভাসানের পর তাঁরা লিখিত অভিযোগ জানাবেন ও তারপরই যেন দ্রুত দোষীকে ধরা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই অন্যান্য গ্রাম থেকে প্রচুর অবাঞ্ছিত বহিরাগত লোক সেখানে ঢুকে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কালীমূর্তি ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর রেখে রাস্তা অবরোধ করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, অবরোধে যুক্ত ছিলেন বিজেপির সমর্থক ও কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিই পরিকল্পনা করে গোটা কাণ্ডটি ঘটিয়ে গ্রামের মানুষকে জড়ো করে পথ অবরোধ করে। উদ্দেশ্য ছিল, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ও এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করা। পথচলতি বহু সাধারণ মানুষ, যানবাহন এমনকী অ্যাম্বুল্যান্সও অবরোধের জেরে আটকে পড়ে। অবরোধকারীদের হাতে ছিল লাঠি এবং ইটপাটকেল। অবরোধ তুলতে এসে পুলিশকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইটপাটকেল। একজন পুলিশকর্মী আহতও হন। পুলিশের বক্তব্য, “তখন কালীমায়ের সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষাকেই আমরা সবচেয়ে প্রাধান্য দিই। দ্রুত অ্যাকশন নিয়ে ইটবৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে কালীমূর্তি নিরাপদভাবে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। কারণ, সেই সময় অন্য কোনও সুরক্ষিত গাড়ি আশপাশে ছিল না। আমরা যা করেছি, মা কালীর সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষা করে শান্তি বজায় রাখার জন্য করেছি। এই নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। গুজবে কান দেবেন না।”

সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, মূর্তি ভাঙার ঘটনায় এ পর্যন্ত নারায়ণ হালদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে তার অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে। ধৃত ব্যক্তি পুলিশকে জানায়, সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থাতেই সে এই কাজটি করেছে যার জন্য সে অনুতপ্ত। ধৃতকে এদিন কাকদ্বীপ আদালতে তোলা হলে তাঁকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, সারা বাংলায় যেভাবে মিথ্যে প্রচার করে বিজেপি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে কাকদ্বীপেও সেই একই চেষ্টা হয়েছিল। বিজেপির অভিসন্ধি ছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.