Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
IND vs SA

‘অর্ডারি’ পিচেই ফাঁসলেন পন্থরা, ব্যাটিং বিপর্যয়ে আড়াই দিনেই ইডেনে লজ্জার হার ভারতের

সিমন হার্মারের ঘূর্ণিতে পরাস্ত ভারতের ব্যাটিং।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৫:০৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৫:০৫

options
link
‘অর্ডারি’ পিচেই ফাঁসলেন পন্থরা, ব্যাটিং বিপর্যয়ে আড়াই দিনেই ইডেনে লজ্জার হার ভারতের zoom

প্রথম ইনিংস
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৫৯/১০ (মার্করাম-৩১, বুমরাহ ২৭/৫, কুলদীপ ৩৬/২)
ভারত: ১৮৯/১০ (রাহুল- ৩৯, হার্মার- ৩০/৪)

দ্বিতীয় ইনিংস
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৫৩/১০ (বাভুমা-৫৫, জাদেজা-৫০/৪, কুলদীপ- ৩০/২)
ভারত: ৯৩/১০ (ওয়াশিংটন ৩১, হার্মার ২১/৪)
প্রথম টেস্টে ভারত ৩০ রানে পরাজিত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহাভারতে একটি অস্ত্রের কথা আছে- ত্বাষ্ট্র। যা ছুড়লে নাকি শত্রুপক্ষ নিজের মধ্যেই মারামারি করা শুরু করে। ইডেনের পিচকে গৌতম গম্ভীররা যে ভাবে ব্যবহার করলেন, তাতে ওই অস্ত্রের কথা মনে আসতেই পারে। টার্ন চেয়ে চেয়ে যে পিচটা তৈরি হল, তা ভারতের জন্যই বুমেরাং হয়ে ফিরে এল। সিমন হার্মারকে বিশ্বমানের থেকেও সেরা বলে মনে হল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ‘অর্ডারি’ পিচেই ফাঁসল ভারত। গৌতম গম্ভীরদের টার্নের দাবিতে যে পিচ বানানোর ‘নির্দেশ’ ছিল, তাতেই বিপদে পড়ল টিম ইন্ডিয়া। ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ৯৩ রানেই গুটিয়ে গেলেন ঋষভ পন্থরা। হার্মারের ঘূর্ণির কাছে ৩০ রানে পরাস্ত হল ভারত।

৬ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে ইডেনে। যা নিয়ে একেবারে সাজসাজ রব ছিল। সাদা পোশাকেও রঙিন হয়ে উঠেছিল ক্রিকেটের নন্দনকানন। সব শেষে কী নিয়ে ফিরবে? ইডেনের মাটিতে ভারতের লজ্জার হার ও পিচ নিয়ে একরাশ বিতর্ক। শুরুটা হল প্রথম দিন থেকেই। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ভারতের ঝুলিতে চার স্পিনার, সঙ্গে বুমরাহ-সিরাজ। তার সামনে বেসামাল হয়ে পড়তে বেশিক্ষণ লাগেনি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম দিনেই মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় টেস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস। সর্বোচ্চ রান আইডেন মার্করামের (৩১)। পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন জশপ্রীত বুমরাহ। তখন মনে হচ্ছিল, টেস্ট জয় অসম্ভব কিছু নয়। এমনকী বাভুমার ব্যাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

জবাবে ঠিক একই ফাঁদে পড়লেন শুভমান গিলরা। ঘাড়ের চোটের জন্য ভারত অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে নামতেই পারলেন না। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোর কেএল রাহুলের (৩৯)। মার্কো জানসেন পান ৩ উইকেট, হার্মারের ঝুলিতে ৪। মাত্র ৩০ রান লিড ছিল ভারতের। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এই টেস্ট তিনদিনের বেশি গড়াবে না। শুধু দেখার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা কতটা লড়াই দিতে পারে। সেই লড়াইটা দিয়ে তারা বুঝিয়ে দিল, কেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর বাভুমা কেন এই দলটার অধিনায়ক। যেভাবে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে ৫৫ রান তুললেন, তা রীতিমতো শিক্ষণীয়। বিশেষ করে ‘স্পিন দুর্বল’ ভারতের তরুণ প্রজন্মের তো অবশ্যই দেখা উচিত। আবার এটাও প্রশ্ন উঠবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়াশিংটন সুন্দর কেন বল করতেই এলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫৩ রানে অলআউট হল। ভারতের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়াল ১২৪ রান।

অন্যসময় হলে এই রানটার আগে ‘মাত্র’ লেখাই যেত। কিন্তু ইডেনের পিচ ও ভারতীয় ব্যাটারদের সাম্প্রতিক সময়ে স্পিন খেলার দক্ষতার জন্য এই রানটাই পাহাড়প্রমাণ হয়ে উঠল। বল স্পিন করছে, কিন্তু তাতে এভাবে যাওয়া-আসা চলবে কেউ আন্দাজই করতে পারেনি। চাপের মুখে ফের আউট হলেন যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুল। ভারতের ১ রানে ২ উইকেট। ম্যাচের ভাগ্য তো প্রায় ওখানেই নির্ধারিত হয়ে গেল। তবু ওয়াশিংটন সুন্দর ৩১ রানে লড়াই চালিয়ে গেলেন। ধ্রুব জুরেল (১৩) অযথা চালাতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ঋষভ পন্থের সংগ্রহ মাত্র ২। রবীন্দ্র জাদেজার এলবিডব্লু দুর্ভাগ্যজনক ঠিকই, কিন্তু কোনও ভাবেই হার্মারদের সামনে স্বস্তিতে ছিলেন না। বাধ্য হয়েই অক্ষর প্যাটেল চার-ছয় মেরে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু এই ‘বধ্যভূমি’তে তিনি ২৬ রানে ফিরলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের ইনিংস গুটিয়ে গেল ৯৩ রানে। যার আগে অনায়াসে ‘মাত্র’ জুড়ে দেওয়া যায়। দ্বিতীয় ইনিংসেও হার্মার নিলেন ৪ উইকেট। দু’টি করে উইকেট মার্কো জানসেন ও কেশব মহারাজের। একটি পেলেন আইডেন মার্করাম। 

আর একটা বিষয়ের আগেও ‘মাত্র’ জোড়া যায়। সেটা হল কোচ হিসেবে লাল বলের ক্রিকেটে গম্ভীরের জয়ের পরিসংখ্যান। বিশেষ করে দেশের মাটিতে। চারটি জয় এসেছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গতবছর চুনকাম। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম টেস্টে হার। বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মা পরবর্তী জমানায় ঘরের মাঠেও টেস্ট হারে কার দিকে আঙুল তোলা হয় সেটাই দেখার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.