সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৫২টি টেস্টে ২৯টি সেঞ্চুরি। ১৩টি অর্ধশতরান। কেরিয়ার শেষ করেছিলেন ৯৯.৯৪ গড় নিয়ে। বিশ্ব ক্রিকেটে যাঁর রেকর্ড অতুলনীয়। তিনি কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। তাঁর সঙ্গে শচীন তেণ্ডুলকরের তুলনা উঠেছে ঠিকই। কিন্তু মাস্টার ব্লাস্টারও তাতে লজ্জিত হয়েছেন। তবে এবার আক্ষরিক অর্থেই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তিকে টেক্কা দিলেন এক আফগানি ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে যাঁর গড় ব্র্যাডম্যানের থেকেও বেশি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্র্যাডমেনের রেকর্ড কি কেউ ছুঁতে পারবেন? এ প্রশ্ন প্রায়শই ঘোরাফেরা করে বিশ্ব ক্রিকেটমহলে। কিন্তু এক আফগানি ব্যাটসম্যান তাঁকে পিছনে ফেলে দিলেন। তরুণ ক্রিকেটার বাহির শাহের নামের পাশে লেখা থাকল গড় ১২১.৭৭।
[জানেন, উইকেট পেয়ে কেন প্রত্যেকবার প্যাভিলিয়নের দিকে তাকাচ্ছিলেন ফিল্যান্ডার?]
আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য আপাতত নিউজিল্যান্ডে আফগানি তারকা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। কেরিয়ারের শুরু থেকেই ব্যাটে রান আসছে তাঁর। অভিষেক ইনিংসেই ২৫৬ রানে অপরাজিত থেকে নজির গড়েছিলেন বাহির। অভিষেক ইনিংসে ব্যক্তিগত রানের নিরিখে যা ছিল সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তারপর যত দিন গড়িয়েছে, ততই বড় বড় রেকর্ড ঝুলিতে ভরেছেন তিনি। পঞ্চম ইনিংসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন ১৮ বছরের বাহির। যে রেকর্ডের একমাত্র মালিক ছিলেন প্রাক্তন পাক তারকা জাভেদ মিঞাদাদ। বাহিরের কাছে সে স্মৃতি অত্যন্ত স্মরণীয়। বলছেন, “টানা দু’দিন ক্রিজে ব্যাট করেছিলাম। টু্র্নামেন্টের আগে ফিটনেসে বেশি জোর দিয়েছিলাম। কোচ শিখিয়েছিলেন কীভাবে অনেকক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারব। নিঃসন্দেহে এমন পারফরম্যান্সে যে কোনও ব্যাটসম্যানই গর্বিত হন।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ নতুন আফগানিস্তান। যাদের উদ্ভবে বড় ভূমিকা পালন করেছিল ভারত। আর সেই দলের ক্রিকেটারই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই কীর্তি সে দেশের উঠতি ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। কেরিয়ারের প্রথম ছয় ইনিংসে বাহিরের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৮৩১ রান। আরেক অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি বিল পনসফোর্ডের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ রানের রেকর্ড ভাঙার সুযোগ এসেছিল তাঁর সামনে। কিন্তু সে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় তা অধরাই থেকে যায়। আসন্ন জুনিয়র বিশ্বকাপে তাঁর দিকেই তাকিয়ে আফগানিস্তান। ইতিমধ্যেই ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ফলে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। বিশ্বকাপে মাথা ঠান্ডা রেখে ভাল পারফর্ম করতে বদ্ধপরিকর বাহির।