সুকুমার সরকার, ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দিনব্যাপী অনশন শুরু করেছে তার দল বিএনপি। আজ বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা-সহ তাদের জোট দল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি। অনশনের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরকে দেখা যায়নি। তিনি মামলায় হাজিরার জন্য আদালতে গিয়েছেন জানিয়ে দলীয় নেতারা বলেন, আদালত থেকে ফিরে তিনি অনশনে যোগ দেবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরি কামাল ইবনে ইউসুফ, নিতাই রায় চৌধুরি, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন অনশনে ছিলেন।
[প্রথম শ্রেণির বন্দি হলেও সাধারণ কয়েদির বেশে জেলে খালেদা জিয়া]
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত। এছাড়া দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-সহ অন্য পাঁচ আসামির আর্থিক জরিমানা-সহ ১০ বছর করে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। রায়ের পর থেকেই খালেদা জিয়া পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এদিকে প্রশ্নের মুখে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। খালেদা জিয়া কি আগামী ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলতি আইন, সংবিধান এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করলে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ গোছের উত্তর মেলে না। বিষয়টি আসলে অস্পষ্ট। হাই কোর্ট যদি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত বা বাতিল করে তাহলে তিনি নির্বাচনে লড়তে পারবেন। হাই কোর্ট যদি দণ্ড স্থগিত না করে, সেক্ষেত্রে জামিনে মুক্তি পেলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাই এখনই হাল ছাড়ছেন না জিয়ার আইনজীবীরা।