স্টাফ রিপোর্টার: বিধানসভায় পিএসি পদ নিয়ে বিতর্কে মানস ভুঁইয়াকে কার্যত গুরুত্বই দিলেন না কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ সাফ বুঝিয়ে দিলেন, প্রদেশ নেতৃত্বর সঙ্গে আলোচনা করেই যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে৷ বুধবার দিল্লিতে রাহুলের বাড়ি গিয়ে দেখা করে নিজের বক্তব্য জানান মানসবাবু৷ অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে প্রদেশ নেতৃত্ব৷
বস্তুত, পিএসি পদ নিয়ে প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরির নির্দেশ অমান্য করে কার্যত প্রদেশের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি৷ প্রদেশ সভাপতি এবং বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতেই সোমবার রাতে দিল্লি আসেন মানসবাবু৷ বৈঠক সেরে বেরিয়ে মানসবাবু বলেন, “আমার যা জানানোর সব জানিয়ে এসেছি৷ আমার বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেস চক্রান্ত করছে৷ আমাকে দল থেকে তাড়ানোই ওদের উদ্দেশ্য৷”
যদিও সূত্রের খবর, হাইকমান্ডের তরফে বাংলার দায়িত্বে থাকা সি পি যোশী এবং প্রদেশ সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেই সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে রাহুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন৷ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, প্রদেশ নেতৃত্বকে অস্বীকার করে মানসের নিজের মতো বেপরোয়া অবস্থান নিয়ে চলা হাইকমান্ড যে বরদাস্ত করবে না, যোশী, অধীর এবং মান্নানের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ দিয়ে পরোক্ষে সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন রাহুল৷ প্রসঙ্গত, এর আগেই হাইকমান্ডের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, শৃঙ্খলা অমান্য করলে চরম সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে না দল৷
কংগ্রেস সূত্রের খবর, মানসবাবু এদিন রাহুলকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, সিপিএমের হাতে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়৷ যদিও আকবর রোডের অন্দরের আলোচনা, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলার পক্ষেই সায় রয়েছে হাইকমান্ডের৷
এদিকে রাহুলের সঙ্গে মানস ভুঁইয়া দেখা করার পরই কংগ্রেসের এই রাজ্যের পর্যবেক্ষক সি পি যোশী ফোন করে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানকে দিল্লিতে তলব করেন৷ এক টেবিলে অধীর-মানস-মান্নানকে বসিয়ে পিএসি-র সমাধান করতে চাইছে এআইসিসি৷ আগামী ৯ আগস্ট দিল্লিতে এই বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে৷