স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শিশুর মাথার সঙ্গে যেন আরও একটি মাথা। দুধের শিশুর কোলে কোলে ঘোরার কথা। কিন্তু মাথা এতটাই ভারী কেউ কোলই নিতে পারেন না। শিশুটিকে খাওয়নোর ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। জটিল রোগে আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সি কন্যাশিশুটিকে নিয়ে দিশাহারা পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার বাবলা গ্রামের কাজিবুল শেখ ও তাঁর পরিবারের লোকজন।
[রাজ্যসভার পঞ্চম আসনে কংগ্রেসের বাজি মনু সিংভি, সমর্থনের ইঙ্গিত তৃণমূলের]
ইতিমধ্যেই কলকাতার বাঙ্গুর ইনস্টটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে মেয়ে বেবি মেহেরুনকে দেখিয়েছেন কাজিবুল। তিনি জানান, জন্মের পর ওই শিশুর মাথার উপরের দিকে ছোট একটা মাংসপিণ্ডের মতো ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে তা বিশাল আকার নিয়েছে। সেটির ওজনই হয়ে গিয়েছে প্রায় ৫ কেজি। শিশুটি চরম কষ্টকর অবস্থা রয়েছে। পাশ ফিরতে পারে না। মাথা ঘোরাতে পারে না। শিশুটির মামা শেখ টুটুল জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েক জায়গায় চিকিৎসকের কাছে শিশুটিকে দেখান পরিবারের লোকজন। তাঁরাও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ঝুঁকি নিতে চাননি কেউই। তাই তাঁরা কলকাতায় গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচার করা হবে কি না সেটা পরে জানাবেন সেখানকার চিকিৎসকরা। ২৯ মার্চ ফের কলকাতায় দেখাতে নিয়ে যেতে হবে ওই শিশুটিকে। কাজিবুল জানান, চিকিৎসকরা বলেছেন এমআরআই, এক্স-রে, ইসিজি ও রক্তপরীক্ষা করতে হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ। তারপর আবার অস্ত্রোপচারের খরচ। তিনি বলেন, “এত টাকা পাবো কোথায় ভেবে পাচ্ছি না।”
[ব্রহ্মতালু ফুঁড়ে বেরিয়ে মস্তিষ্ক, ‘মনস্টার বেবি’ নিয়ে দিশেহারা হাসপাতাল]
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রয়েছে কাজিবুলদের। কিন্তু নামে ভুল থাকাতেই বড় সমস্যায় পড়েছেন তারা। কাজিবুল পেশায় রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ে। স্ত্রী গৃহবধূ। এই অবস্থায় মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কাজিবুল। চিকিৎসক অরূপ ঘোষ জানান, প্রাথমিকভাবে এটাকে ‘কনজেনিট্যাল ম্যালফর্মেশন’ বলেই মনে হচ্ছে। মাথার খুলির হাড়ে ত্রুটি রয়েছে। যেখান দিয়ে ব্রেন টিস্যু, মেনিনজেস বেরিয়ে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। নিউরোসার্জেনের পারমর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও করতে হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে হবে এর সঙ্গে ব্রেনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, না শুধু জল বা অন্য কিছু রয়েছে। যদি দেখা যায় ব্রেনে কোনও যোগ নেই তা হলে অস্ত্রোপচার করানো যেতে পারে। মেয়ের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চান কাজিবুলরা। গলসি-২ বিডিও শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।