সব্যসাচী ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না স্ত্রী। প্রতিবাদে রীতিমতো ফ্লেক্স ছাপিয়ে অনশনে স্বামী। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে শিলিগুড়ির সূর্যনগর এলাকায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে অনশন উঠে গেলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ মেটেনি। আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
[শুক্রবার ছেলেরা দাহ করলেন, শনিবার ‘মৃত’ ব্যক্তি ফিরলেন বাড়িতে!]
২৮ বছরের বিবাহিত জীবন শিলিগুড়ির সূর্যনগরের বাসিন্দা প্রবীর সাহা ও বেবি সাহার। একটি ছেলেও রয়েছে দু’জনের। ব্যাংকের কালেকশন এজেন্ট হিসাবে কাজ করতেন প্রবীরবাবু। স্ত্রীও বিমা কোম্পানির এজেন্ট হিসাবে কর্মরত। বছর কয়েক আগে আর্থিক সংকটের কারণে বাড়ির নিচতলা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন তিনি। অভিযোগ, এরপরেই বাড়ির বাকি অংশ নিজের নামে করে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন স্ত্রী। সেই মতো বাকি বাড়ি নিজের স্ত্রীর নামে লিখেও দেন প্রবীরবাবু। এর পরই স্ত্রী তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। চিঠি দিয়েছেন মহকুমা শাসককেও। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। এক বছর ধরে কখনও মন্দিরে, কখনও হোটেলে কখনও পরিচিত কারও বাড়িতে থাকছিলেন তিনি।

[শপথ হয়নি, এখন থেকেই ইনোভা গাড়ির আবদার নাগাল্যান্ডের বিধায়কদের]
কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও স্ত্রী তাঁকে বাড়িতে ফেরাতে উদ্যোগী না হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নেন প্রবীরবাবু। একটি ফ্লেক্সে স্ত্রীর ছবি ছাপিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ লিখে বাড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসে পড়েন তিনি। আচমকা এই ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। খবর যায় শিলিগুড়ি থানায়। পুলিশ অনশন প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ করেন প্রবীরবাবুকে। সেই মতো অনশন তুলেও নেন তিনি। পুলিশের হস্তক্ষেপেও প্রবীরবাবুকে বাড়িতে ঢুকতে দিতে রাজি হননি স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে প্রবীরবাবুকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। যদিও এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রবীরবাবুর স্ত্রী বেবি সাহা। প্রবীরবাবু জানিয়েছেন, তিনি অসহায়। বর্তমানে কর্মহীন। যেভাবেই হোক নিজের বাড়িতে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু তাঁর অর্ধাঙ্গিনীর সেই ইচ্ছে আছে কি?