সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “এই যাঃ! মিষ্টির প্যাকেটটা যে গাড়িতেই রয়ে গেল!”
–মানে? তুমি নামাওনি?
–না তো! ইস! একদম ভুলে গেছি”।
বুকে হাত রেখে বলুন তো, ট্যাক্সিতে জিনিসপত্র নিয়ে উঠে আজ পর্যন্ত কতবার, কী কী জিনিস নামাতে ভুলে গিয়েছেন? স্মৃতি ফিরেছে তখন, যখন আর কিচ্ছুটি করার নেই? আপনার সাধের সেই বস্তুটিকে সিট কিংবা জানালা-দাবা করে, কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ভিড়ে মিশে গিয়েছে আপনার যান? আপনার ‘মেমোরি’ ধোঁকা দিয়ে গেলেও মনে রেখেছে উবের। আগের বছরের মতো এবারও তারা প্রকাশ করেছে হারানো এবং প্রাপ্তির তালিকা। যার পোশাকি নাম ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্স’। গত এক বছরে উবেরের যাত্রীরা ঠিক কী কী জিনিসপত্র গাড়ির ভিতরেই ফেলে রেখে চলে গিয়েছেন, তারই খতিয়ান হল এই ‘ইনডেক্স’। আর এই তালিকার বিশ্লেষণ করেই জানা গিয়েছে, বিশ্বের সবথেকে ভুলোমনা দেশ হিসাবে অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপিন্সের সঙ্গেই শীর্ষ স্থানে রয়েছে ভারত।
[বারুইপুরে এনজিও-র ছায়ায় বাড়ছে রোহিঙ্গাদের আনাগোনা, নজর রাখছে প্রশাসন]
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে। আর ভারতের সবচেয়ে অমনোযোগী শহরের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে বেঙ্গালুরু, দুই নম্বরে নয়াদিল্লি, তিনে মুম্বই, চারে হায়দরাবাদ। আর পাঁচ নম্বরে কল্লোলিনী কলকাতা। ঠিক প্রথম বছরের মতোই, এ বছরও। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে কলকাতা আছে ত্রয়োদশ স্থানে।
সত্যি? তিলোত্তমার এত ভুলো মন?
না। ঠিক শহরের নয়। বিস্মৃতি বরং বেড়ে চলেছে শহরবাসীর। এবং তা-ও আবার এত দ্রুত হারে, যে কল্পনা করাও মুশকিল। তবে তথ্য বলছে, প্রথম বছর যেখানে যাত্রীগণ ট্যাক্সি ছাড়ার পর সেখানে মূলত ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং চাবিই বেশি সংখ্যায় মিলেছে, এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইডেন্টিটি কার্ড, চশমা এবং ছাতা। উবেরের হিসাবে ‘টপ টেন’ হারানো এবং প্রাপ্তির তালিকা অনেকটা এরকম। বেশি থেকে কমের হিসাবে রয়েছে মোবাইল ফোন, ব্যাগ, ওয়ালেট, চাবি, পোশাক, লাইসেন্স কিংবা পাসপোর্ট, চশমা, জলের বোতল, ছাতা এবং গহনা। তবে এই সব ‘সাধারণ’ জিনিসপত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু অসাধারণ জিনিসপত্রও এই তালিকায় রয়েছে, যা উবেরযাত্রীরা নিত্যই নামাতে ভুলে যান। যেমন ক্রিকেট প্যাড, সোনার ব্রেসলেট, ফোটোফ্রেম, এলসিডি টিভি, শিশুদের সাইকেল, গলদা চিংড়ির প্যাকেট, মশারি, পোকার সেট প্রভৃতি।
কিন্তু সামগ্রিকভাবে কলকাতা কেমন ‘রেজাল্ট’ করল? বিশ্লেষণ বলছে, কলকাতাবাসী সোমবার থেকে শুক্রবার অর্থাৎ ‘উইকডেজ’গুলিতে বেশ মনোযোগী থাকলেও অদ্ভুতভাবে এর ঘাটতি ঘটে শনি ও রবিবারে। উইকএন্ডে ভুলে যাওয়ার রোগে অত্যধিক জর্জরিত হন তিলোত্তমার বাসিন্দারা। শুধু কি তাই? জানা গিয়েছে, সকাল সাতটা থেকে আটটা এবং দুপুরে দু’টো থেকে চারটের মধ্যে না কি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাঙালিদের বাড়ে। আর একমাত্র কলকাতার ক্ষেত্রেই অমনোযোগী হয়ে ট্যাক্সিতে ফেলে যাওয়া জিনিসপত্রের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে সোনার গহনা, জন্মদিনের কেক, এলসিডি টিভি এমনকী লিপস্টিকও।
[গুগলে এই চারটি শব্দ লিখলেই মিলছে আধারের তথ্য, শিকেয় নিরাপত্তা]