সন্দীপ মজুমদার: কথায় বলে রাখে হরি মারে কে! কিন্তু হরি যখন মারেন তখন রাখবেই বা কে? অনেকটা এরকম কথাই ঘুরছে ফিরছে উদয়নারায়ণপুরে কাঁকরোল গ্রামে। প্রসাদে নাকি সাক্ষাৎ ভগবানের আশীর্বাদ থাকে। তাই ভক্তের কাছে প্রসাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের হরিনাম সংকীর্তনের শেষে মালসা ভোগের রেওয়াজ বৈষ্ণব মহলে দীর্ঘদিনের। বহু ভক্তই ভোগ পেতে নামে মালসা বুক করেন। কাঁকরোল গ্রামে তা খেয়েই প্রায় আড়াইশো জন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেবীপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে শতাধিক ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগী ভরতি আছে বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে।
[ দোষী প্রমাণিত হলে শিক্ষারত্ন পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর ]
স্থানীয় সুত্রে জানা যাচ্ছে, দিনকয়েক আগেই কাঁকরোল গ্রামে হরিনাম সংকীর্তনের আসর বসে। সাধারণত এই ধরনের কীর্তনের আসরে চিড়ের মালসা ভোগ দেওয়া হয়। এখানেও তাই হয়েছিল। সংকীর্তন শেষে সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন ভক্তরা। গ্রামবাসীদের বক্তব্য গভীর নলকূপের জল ছাড়াও গ্রামের একটি পাতকুয়োর জল দিয়ে ওই ভোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই প্রসাদী ভোগ খাওয়ার পর থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে থাকে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে পেট ব্যথা পরে বমি ও পায়খানা উপসর্গ নিয়ে রোগীরা দেবীপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। বুধবার বিকেল থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেককে উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে দেবীপুরে ৮৫ জন ও উদয়নারায়ণপুরে ২০ জন ভর্তি ছিলেন।
[ দোষী প্রমাণিত হলে শিক্ষারত্ন পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর ]
এদিকে পুরো ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। জলের দোষেই এই পরিস্থিতি বলে বাসিন্দারা মনে করছেন। বৃহস্পতিবারই একটি চিকিৎসক দল কাঁকরোল যান। এছাড়াও গভীর নলকূপের জল, পাতকুয়োর জল ও মালসা ভোগের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
ছবি-প্রতীকী