সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রামের মুখিয়ার ছেলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন দুই সাংবাদিক। প্রাণের বিনিময়ে চোকাতে হল মাসুল। দুই সাংবাদিককে গাড়ি চাপা দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল মুখিয়ার স্বামী ও ছেলের বিরুদ্ধে। যদিও ঘটনার পর থেকে পলাতক মহম্মদ হারসু ও তার ছেলে। রবিবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সাসারাম-আরা রাজ্য সড়কে।
[প্রস্রাব করে ফেলায় রোগীকে স্ট্রেচার-সহ অ্যাম্বুল্যান্সের বাইরে ফেলল চালক]
জানা গিয়েছে, পাটনা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় কোনও ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন সাংবাদিক নবীন নিশ্চল ও বিজয় সিং। কাজ মিটিয়ে তাঁরা যখন আরা-তে ফিরে যাচ্ছেন তখনই ঘটে ঘটনা। স্থানীয় গঢ়হনি বাজারে এলাকার প্রাক্তন মুখিয়া শাহিদা প্রবীণের স্বামী হারসুর সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। শেষ পর্যন্ত বচসা মিটিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন দুই সাংবাদিক। অভিযোগ, তখনই নিজেদের এসইউভি দিয়ে পিছন থেকে চলন্ত বাইকে ধাক্কা মারে হারসুর ছেলে। সে নিজে বসেছিল চালকের আসনে। দুই সাংবাদিক গাড়ি থেকে পড়ে যেতেই তাঁদের উপর এসইউভি চালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুজনের। এরপরেই প্রমাণ লোপাট করতে বাবা ছেলে মিলে এসইউভি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তবে হারসুর এহেন কুকীর্তি নতুন কিছু নয়। এর আগেও সে নানারকম অপরাধ ঘটিয়েছে। শুধু গ্রামের নেতৃস্থানীয় পরিবারের সদস্য হওয়ায় বারবার ছাড়া পেয়ে যায়। তবে সাংবাদিক খুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুই অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে এককাট্টা হয়েছে বাসিন্দারা। দোষীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
বিহারে সাংবাদিক খুনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার খবরের সন্ধানে গিয়ে প্রাণ খোয়াতে হয়েছে সাংবাদিকদের। প্রত্যেকটি খুনের পিছনেই জড়িয়েছে বিহারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা কোনও কুখ্যাত সমাজ বিরোধীর নাম। ২০১৬-র ১৩-মে সাংবাদিক যাদব রঞ্জনকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বিহারে। ঘটনাস্থল বিহারের সিওয়ান। এবারেও তার ব্যাতিক্রম হল না। মূলত, কোনও তিক্ত সত্য সামনে চলে এলে বিপদে পড়তে পারে নামী কোনও ব্যক্তিত্ব। তাই প্রখ্যাত ব্যক্তির সম্মান রক্ষার্থে সাংবাদিককে চিরদিনের মতো ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। কয়েকমাস আগেই নিজের বাড়ির সামনে খুন হয়েছিলেন তামিলনাড়ুর বিশিষ্ট সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ। গুলি করে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পর পর গুলি চালিয়েছিল বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা। বছর ঘুরতে চললেও খুনিরা এখনও অধরাই।