সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দুরন্ত গতিতে গন্তব্যের পথে ছুটছে বাতানূকূল দূরপাল্লার ট্রেন। আচমকা চলন্ত ট্রেনের একটি কামরা থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করল। ঘটনায় তুমুল আতঙ্ক ছড়াল এনজেপি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসে। বর্ধমানের মশাগ্রাম স্টেশনের কাছে চেন টেনে ট্রেন থামালেন যাত্রীরা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরাটিকে ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন রেলকর্মীরা। বিকেলে নির্বিঘ্নেই হাওড়া স্টেশনে পৌঁছয় শতাব্দী এক্সপ্রেস। রেলকর্মীদের অনুমান, শতাব্দী এক্সপ্রেসের সি-১ কামরায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে গোলযোগের কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে।
[ SSC পরীক্ষার্থীদের চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণা, জালে ২ শিক্ষক-সহ ৬]
ভারতীয় রেলের কুলীন ট্রেনগুলির একটি শতাব্দী এক্সপ্রেস। এ রাজ্যেই শুধু নয়, দেশের বিভিন্ন রুটে চলে সম্পূর্ণ বাতানুকূল এই ট্রেনটি। ভাড়াও কম নয়। মঙ্গলবার এনজেপি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তুমুল আতঙ্ক ছড়াল। আগুন লেগেছিল সি-১ কামরায়। যাত্রীদের হুড়োহুড়িতে চলন্ত ট্রেনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিকেলে হাওড়ার পৌঁছনোর পরও যাত্রীদের চোখে মুখে ছিল আতঙ্ক ছাপ। বর্ধমানের মশাগ্রাম স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
[শুরুর দিনেই বিতর্ক, বাংলা প্রথম ভাষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হোয়াটসঅ্যাপে]
উত্তরবঙ্গের এনজেপি স্টেশন থেকে হাওড়া আসছিল শতাব্দী এক্সপ্রেস। সি-১ কামরার যাত্রীদের দাবি, বোলপুর স্টেশনের কাছে প্রথম কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন তাঁরা। বিষয়টি রেলকর্মীদের জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। দুটি কামরায় মাঝের দরজা দিয়ে পাশের কামরায় চলে যান সি-১ কামরার যাত্রীরা। চলন্ত ট্রেনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত বর্ধমানের মাশগ্রাম স্টেশনের কাছে টেন টেনে শতাব্দী এক্সপ্রসকে দাঁড় করান যাত্রীরা। ছুটে আসেন রেলকর্মীরা। যাত্রীদের নামিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরাটিকে ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ওই কামরার যাত্রীদের অন্য কামরায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মশাগ্রাম থেকে যখন শতাব্দী এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল, তখন হাওড়া দিকে যাচ্ছিল সরাইঘাট এক্সপ্রেস ও শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস। রেলে তরফে জানানো হয়, শতাব্দী এক্সপ্রেসে যাত্রীরা চাইলে ওই দুটি ট্রেনে চেপেও হাওড়ায় পথে রওনা হতে পারেন। শেষপর্যন্ত, দুপুরে সাড়ে তিনটে নাগাদ মশাগ্রাম স্টেশন থেকে ফের হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় শতাব্দী এক্সপ্রেস। নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছয় ট্রেন। তবে হাওড়া স্টেশন নামার পরও দৃশ্যতই আতঙ্কিত ছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু, কীভাবে এনজেপি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসের কামরায় আগুন লাগল? শতাব্দী এক্সপ্রেসের প্রতিটি কামরায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রেলকর্মীদের অনুমান, সি-১ কামরায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গণ্ডগোলের কারণে কামরায় আগুন লেগে গিয়েছিল।
[ঘর থেকে উদ্ধার বধূর গলাকাটা দেহ, চাঞ্চল্য কালিয়াগঞ্জে]