সুকুমার সরকার, ঢাকা: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল খালেদা জিয়াকে। শনিবার, পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আবার তাঁকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ৫১২ নম্বর কেবিনে রয়েছেন বিএনপি নেত্রী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড খালেদার চিকিৎসা করছে। আপাতত এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করা হবে বেগম জিয়ার। এদিন হাসপাতালের সামনে বিএনপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়। তাদের দাবি, রেহাই দিতে হবে নেত্রীকে। খালেদার সমর্থকদের হটাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। তবে ওই ঘটনায় জখম হয়নি কেউ।

[‘জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক নেই’, জানালেন খালেদার ব্রিটিশ আইনজীবী]
দলনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে বিএনপি। তাদের দাবি খালেদা জিয়া অসুস্থ। দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন তাঁর। তাই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক। তাই এদিন চিকিৎসার জন্য খালেদাকে হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন আগেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ জানান, পরিকল্পিতভাবে বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে হাসিনা সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ানক ষড়যন্ত্র চলছে। তাই খালেদাকে দেশ থেকে বাইরে পাঠাতে হবে। এদিন পরোক্ষে খালেদার প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন বিএনপি নেতা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরই ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর জেলের সাজা হয়। অনাথ শিশুদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন খালেদা।
[প্রথম শ্রেণির বন্দি হলেও সাধারণ কয়েদির বেশে জেলে খালেদা জিয়া]