দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: বিশ্বাসে মেলায় বস্তু। ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস তো অনেকেই থাকে, কিন্তু কজন আর পারেন মানুষকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে পুজো করতে!
চৈত্র মাসে নীলষষ্ঠীতে শিবের মাথায় জল ঢেলে সন্তানের মঙ্গল কামনায় ব্রতী হন মায়েরা। হিন্দু ধর্মে এটাই রীতি। এই রীতি মেনে শুক্রবারও সকাল থেকেই শিবের মাথায় জল ঢেলে উপবাস ভেঙেছেন বাড়ির মহিলারা। কিন্তু চুঁচুড়া থানার বালিমোড় কালীতলায় দেখা যায় এক্কেবারে অন্যরকম ছবি। এখানে রক্ত-মাংসের মানুষই একদিনের জন্য হয়ে ওঠেন শিব ঠাকুর। প্রত্যেক বছর রীতি মেনে এখানে মনুষ্যরূপী শিবের পুজো করেন এলাকার মায়েরা। দুধ-জল দিয়ে স্নান করানো হয় তাঁদের। আকন্দ ফুলের মালা পরিয়ে পুজোও করা হয়।
[ভোটের লড়াইয়ে নেই, দেওয়াল লিখনে ব্লক সভাপতির নামই ভরসা কালনার তৃণমূল প্রার্থীদের]

বিগত ১০০ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। শুক্রবার নীল ষষ্ঠীর দিন কালীতলায় ৩৭ জন সন্ন্যাসীকে শিবরূপে পুজো করলেন মহিলারা। এদিন সকাল সন্ন্যাসীদের পুজো দেখতে ভিড় জমেছিল। প্রথা মেনেই তাঁদের মাথায় জল ঢেলে পুজো করা হল। ভক্তরা পুজোর ডালি থেকে ফলমূল-মিষ্টি ইত্যাদি তুলে দেন সন্ন্যাসীদের হাতে। তবে এখানেই শেষ নয়। শনিবার গাজনে আবার এঁদেরই দেখা যাবে অন্যরূপে। গাজন উপলক্ষে আবার এই সন্ন্যাসীরা ১৫ ফুট উঁচু থেকে বঁটির উপর ঝাঁপ দেবেন।
[অসময়ের কদমফুলেই পুজো ধনেশ্বর শিবের, গাজনে ৫০০ বছরের প্রথা আউশগ্রামের ধনকুড়ায়]
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০০ বছর ধরে এই রীতি মেনে এই এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। তাঁদের বিশ্বাস, নিষ্ঠার সঙ্গে এই রীতি মানা হয়ে আসছে বলেই আজ পর্যন্ত এখানে কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। তাঁরা মনে করেন, যাঁরা নিয়ম মেনে প্রতিবার এই দিনটিতে পুজো-পাঠ করেন তাঁরা বিপদ মুক্ত থাকেন। সবরকম মনকামনাও পূর্ণ হয়। নীল পুজোতে এই এলাকা রীতিমতো জমজমাট হয়ে ওঠে।