সুকুমার সরকার, ঢাকা: ফের রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার, লন্ডনে ‘ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’-এর (ওডিআই) একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাসিনা। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আবেদন করেন তিনি।
[পঞ্চায়েতে ভাল কাজের পুরস্কার, বিশ্বব্যাংকের ৪২৬ কোটি টাকা পাচ্ছে রাজ্য]
এদিনের অনুষ্ঠানে হাসিনা বলেন, “রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের প্রচণ্ড চাপ একাই বহন করছে বাংলাদেশ। প্রায় ১১ লক্ষ শরণার্থীকে মানবিকতার খাতিরে আশ্রয় দিয়েছে দেশ। মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কিছুই করেনি। বিষয়টি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। তাই এবার সু কি সরকারের উপর চাপ তৈরি করুক আন্তর্জাতিক মহল।” ভাষণে নাইপিদাওয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসিনা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সুযোগ নিচ্ছে মায়ানমার। শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও কাজের কাজ কিছুই করছে না ওই দেশ। গণহত্যায় জড়িত বার্মিজ সেনা, এমন অভিযোগও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো নিয়েও এদিন হাসিনা জানান, বিগত কয়েক বছরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে দেশ। তবে তা ধরে রাখতে হলে আরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ নিয়েও মুখ খোলেন হাসিনা। তিনি সাফ বলেন, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। কোনও মতেই মৌলবাদী কার্যকলাপ মেনে নেওয়া হবে না। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাসবাদের উত্থান, প্রাকৃতিক দুযোর্গ ও অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে সমস্যা কাটিয়ে দেশ আজ উন্নতির পথে।
রাজনীতিবিদদের একাংশের মতে লন্ডনে উন্নয়ন নিয়ে বার্তা দিলেও রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ। চুক্তি স্বাক্ষর করলেও উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করছে মায়ানমার। ফলে প্রবল চাপ পড়ছে উন্নয়নশীল দেশটির অর্থনীতিতে। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছেন হাসিনা।
[‘২৪ ঘণ্টা তোমাদের উপর নজরে রাখছি’, চিনা নৌবহরকে নিশানা করে বার্তা ভারতের]