সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তিনি বৃদ্ধ হলেন। বনস্পতি হয়ে ছায়া দিয়েছেন। বুড়ো গাছের পাতায় পাতায় আজও সবুজ মায়া। তবে নেই সে সুঠাম ডাল। শরীরে বাসা বেধেছে রোগ। বয়স তো পেরিয়েছে সাত শতক। এখন তাই দুর্বল হয়েছে শরীর। এহেন প্রাচীন বনস্পতিকে বাঁচিয়ে তুলতে এবার স্যালাইনের বন্দোবস্ত করা হল।
[ যোগীর রাজ্যে নৃশংস কাণ্ড! বন্ধুদের ‘আমন্ত্রণ’ জানিয়ে মেয়েকে গণধর্ষণে শামিল বাবাও ]
ঘটনা তেলেঙ্গানার। প্রায় সাতশো বছরের পুরনো এই বটগাছ। বিস্তৃতি প্রায় তিন একর জায়গা জুড়ে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বটগাছের শিরোপা পেয়েছে এটি। পর্যটকদের অন্যতম দ্রষ্টব্য এই প্রাচীন বনস্পতিটি। কিন্তু সম্প্রতি সেটি অসুস্থ হযে পড়ে। বনদপ্তরের কর্তারা বুঝতে পারেন প্রাচীন বটগাছের কোটরে কোটরে অসুখ বাসা বেঁধেছে। কুঁকড়ে যাচ্ছে ডালপালা। ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। পর্যটকদের হাঙ্গামা থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বাঁচিয়ে তোলা যায় কীভাবে। বিশেষজ্ঞরা পরখ করে দেখেন গাছটির অবস্থা। বয়সের কারণে খানিকটা ভঙ্গুরতা এসেছে। একে তো শাখা-প্রশাখার ভারে ন্যুব্জ। তার চাপ আছে। অন্যদিকে পর্যটকরা অনেক সময় ঝুরি ধরে দোল খায়। দীর্ঘদিন তা চলতে চলতেই এই অবস্থায় পৌঁছেছে গাছটি। কিন্তু সবথেকে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে উইপোকা। গাছের শাখায় শাখায় ছড়িয়েছে উইয়ের সংসার। তাতে গাছের মৃত্যু আসন্ন হয়ে উঠেছে। ফলে বন দপ্তরের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন, স্যালাইনের মাধ্যমে উইপোকা মারা ওষুধ গাছের শরীরে প্রবেশ করাতে হবে। সেইমতো কাজ শুরু হয়। গাছের বিভিন্ন ডালে ডালে ঝোলানো হয় স্যালাইনের বোতল। ড্রিপ দেওয়া শুরু হয়।
[ রেহাই পাচ্ছে না শিশুকন্যাও, দুঃখে চোখে জল আমুল-কন্যার ]
ওষুধে কাজ হচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন বনকর্মীরা। এখন অনেকটাই সুস্থ গাছটি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো এলাকাটিই কীটনাশক দিয়ে শোধিত করে নিতে হবে। তাহলে এই কীটের আক্রমণ থেকে বেঁচে যাবে প্রাচীন বনস্পতিটি।