সুকুমার সরকার, ঢাকা: গণধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করে না সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার সাফ জানালেন মায়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হাইয়ং। এদিন রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি। সেখানে বার্মিজ সেনার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও গণধর্ষণের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেন তিনি।
[আলিঙ্গনে ‘শাপমুক্তি’, প্রেম-প্রতিবাদ মিলেমিশেই কলকাতা আবার ‘ভালবাসার শহর’]
রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মায়ানমার সফরের আগে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা। এদিন রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মায়ানমার সেনার প্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধিরা। রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে বার্মিজ সেনা। এই অভিযোগ উঠতেই তা খারিজ করে দেন জেনারেল মিন। তিনি বলেন, “মায়ানমার সেনাবাহনী সুশিক্ষিত ও অনুশাসিত। শুধুমাত্র আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দক্ষতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয় সেনা। কোনও গর্হিত কাজ সেনার জওয়ানরা করেন না।”
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে সু কি সরকারের সুরেই গলা মিলিয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি জানান, রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফেরত নিতে প্রস্তুত দেশ। তবে শরণার্থীদের পরিচয় খতিয়ে দেখে তাঁদের ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাখাইন হিংসার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসবাদীদের দায়ি করেছেন বার্মিজ সেনাপ্রধান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু কি সরকারের উপর চাপ দিচ্ছে সেনা। ফলে একপ্রকার সেনা কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে শরণার্থী সমস্যার সমাধান।
উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রতিনিধি দলটি। তারপর রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের সূত্র খুঁজতে দু’দিনের সফরে মায়ানমারের উদ্দেশে রওনা দেন রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধিরা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের উপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা হয়েছে বলে আগেই সু কি সরকারকে একহাত নিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। তদন্তে নেমেছে আমেরিকাও। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জবাব দিতে হবে বলে নাইপিদাওকে সাফ জানিয়েছে আমেরিকা। উল্লেখ্য, ২০১৭-র রাখাইন হিংসার পর প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তাঁদের দেশে ফেরাতে টালবাহানা করছে মায়ানমার। ফলে ক্রমশ চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের উপর।
[দৃঢ় হচ্ছে সম্পর্ক, এবার হটলাইনে কথা বলবে ভারত ও চিনের সেনা]