বিপ্লব দত্ত, নদিয়া: পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে কার্যত ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের মধ্যে। এরই মধ্যে আরও বেড়ে চলেছে জেলায় জেলায় সন্ত্রাস। এবার অভিযোগ এসেছে নদিয়ার হাঁসখালি রামনগরের বড়চুপুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে। অভিযোগের তির সেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই।
[বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদেরও ভোটারের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ মন্ত্রীর]
এই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রাক্তন উপপ্রধান ছিলেন সিপিএমের তপন সরকার। তবে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটে লড়ছেন না তপন সরকার। তবে তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি সরকার প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের টিকিটে। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত নটা নাগাদ তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল দুষ্কৃতিদের দল। সংখ্যায় তারা প্রায় ৬০ জন ছিল বলে জানিয়েছেন তপন সরকার। লুটপাট চালানোর পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর করেছিল দুষ্কৃতিরা এবং তা ঠেকাতে গেলে তাদের মারধর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের এই প্রাক্তন উপপ্রধান। আতঙ্কে তিনতলার ছাদে উঠে দরজায় তালা মেরে কোনও রকমে প্রাণে বাঁচেন তপন সরকার ও তাঁর স্ত্রী। এরপরে বাড়ির সকলে চিৎকার শুরু করলে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতিরা।
[মা ও ভাই কংগ্রেস প্রার্থী, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা]
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সুপ্রতীপ রায়। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার রাতে একই ভাবে জেলার মহিলা নেত্রী অত্রি মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল একদল দুষ্কৃতি। ছোড়া হয়েছিল বোমা। এর আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল হাঁসখালির পার্টি অফিসও। এই সমস্ত ঘটনায় তাদের দিকে অভিযোগের তীর থাকলেও, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন হাঁসখালি ব্লক তৃণমূল সভাপতি কল্যাণ ঢালি। উলটে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তপন সরকারই বহিরাগত নিয়ে এসে এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিরোধী সিপিএম এমনও পালটা অভিযোগ করেছেন তিনি।