সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল: কথায় আছে, কারও পৌষমাস তো কারও সর্বনাশ। ঘরের মাঠে বুধবার রাতে স্বপ্নভঙ্গ রোমার। আর হেরে গিয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুল। কোথাও কান্না তো কোথাও উচ্ছ্বাস। অবশ্য আরেকটু হলেই বার্সেলোনার দশা হচ্ছিল লিভারপুলের। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে অ্যানফিল্ডে ৫-২ গোলে রোমাকে বিধ্বস্ত করার পর বেশ আত্মবিশ্বাসই ছিলেন লিভারপুল ম্যানেজার য়ুরগেন ক্লপ। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের মতোই শেষ চারের ফিরতি লেগে অলৌকিক কিছুর আশায় বুক বেঁধে ছিলেন রোমার সমর্থকরা। বার্সেলোনার মতো লিভারপুলকেও অ্যাগ্রিগেটে হারাতে মরিয়া ছিলেন ডি’ রোসি, কোলারভরা। ফাইনালে যেতে গেলে লিভারপুলকে শুধু হারাতেই হত না, পাশাপাশি ৪ গোলের ব্যবধান রাখতে হত। কিন্তু শুরুতেই দুগোল খেয়ে যায় রোমা। তাতেই সব আশায় জল পড়ে যায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে ৪-২ স্কোরে রোমা ম্যাচ জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে অ্যাগ্রিগেটে ৭-৬ গোলের সুবাদে কিয়েভের টিকিট পেল লিভারপুলই। চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন রোমার যোদ্ধারা। অন্যদিকে, ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারানোর স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিলেন লিভারপুলের সালাহ, ফারমিনোরা।
[চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রিয়ালের ডিএনএ-তে রয়েছে, ফাইনালে পৌঁছে গর্বের সঙ্গে বললেন জিদান]
কিন্তু রূদ্ধশ্বাস-টানটান উত্তেজনার ম্যাচেও তাল কাটল রেফারিং। যা নিয়ে রীতিমতো সরব ইটালিয় ফুটবলমহল থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম। রেফারিংকে পরিহাস বলে কটাক্ষ রোমার প্রেসিডেন্ট জেমস পাল্লোট্টা। অবিলম্বে তিনি ম্যাচে ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট
রেফারির দাবি জানিয়েছেন। তার কারণ রেফারির একটি সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়ার্ধে রোমার ফরোয়ার্ড এডিন জেকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন লিভারপুলের গোলকিপার লরিস কারিয়াস। কিন্তু অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। তার ঠিক এক মিনিট পরেই ব্রিটিশ ক্লাবের ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেননি। তাতেই চটেছেন পাল্লোট্টা। বলেন, অন্ধ রেফারিংয়ের জন্য হারতে হল তাঁর দলকে। এমনকী তাঁর দাবি, মাঠের দর্শকরাও পরিষ্কার দেখতে পেয়েছিলেন ওটি হ্যান্ডবল ছিল। এবং এই অপরাধে অবধারিত ছিল লাল কার্ড। কিন্তু রেফারির বদান্যতায় পার পেয়ে যায় লিভারপুল, অভিযোগ রোমা কর্তার। তাই অবিলম্বে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনের দাবি তুলেছেন তিনি।
[২৫ বার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সা, মেসিদের জয়ে কী প্রতিক্রিয়া রোনাল্ডোর?]
কিন্তু বিতর্ক যাই থাক। এতো কাছে এসেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে না যেতে পারার দুঃখ ভুলতে পারছে না রোম। তবে নাছোড় লড়াই তারা দিয়েছে মানছেন লিভারপুল ম্যানেজারও। ক্লপের মতে, তাঁর দল পাগলের মতো খেলেছে। ২০১৩ সালে জার্মানির ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলে তাক লাগিয়েছিলেন ক্লপ। এবার লিভারপুলকেও ফাইনালের মঞ্চে তুলে ফের নিজের জাত চেনালেন জার্মান ফুটবল বিশারদ। সেইসঙ্গে খুশির ঢেউয়ে ভাসছে ইংল্যান্ডের বন্দর শহর।