রাজা দাস, বালুরঘাট: বাঞ্ছারামের বাগান সিনেমাটি দেখেছেন? বাস্তবে সেই সিনেমারই একটি দৃশ্যই যেন প্রত্যক্ষ করলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বাসিন্দারা। পুলিশের সামনে উঠে বসলেন ‘মৃত’ বৃদ্ধ। ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল বালুরঘাটের মালঞ্চার হায়নাপাড়ায়।
[বাংলাদেশে হেরোইন পাচারের ছক, কাটোয়ায় সিআইডির জালে দুই মহিলা]
ওই বৃদ্ধের নাম চম্পা ওরাঁও। বালুরঘাটের মালঞ্চার হায়নাপাড়ায়ই থাকেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের জানিয়েছেন, ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। নিয়মিত খাবারও জোটে না। সোমবার চম্পা ওঁরাও-কে এলাকার একটি ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বহুবার ডেকেও আদিবাসী ওই বৃদ্ধের কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা ভেবেছিলেন, চম্পা ওঁরাও মারা গিয়েছেন। তাঁর মৃতদেহটি ধানক্ষেতে পড়েছিল। তাই বালুরঘাট থানায় খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু, ধানক্ষেত থেকে পুলিশ যখন মৃতদেহটি উদ্ধার করতে যায়, তখনই ঘটে চমকপ্রদ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ কাছে যেতেই আচমকাই উঠে বসেন চম্পা ওঁরাও। পুলিশকর্মীদের কাছে খাবার চান তিনি। চোখের সামনে এই ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা। এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
[প্রতিবেশীর দুই শিশুকন্যাকে যৌন হেনস্তা, যুবককে গণপিটুনি গ্রামবাসীদের]
মৃত্যুর চার ঘণ্টার পর ডেথ সার্টিফিকেট দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু, সে তো আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। মৃত মানুষকে বাঁচিয়ে তোলে কার সাধ্যি! তাহলে এমনটা হল কী করে? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন কিছু না খেয়ে কিংবা অন্য কোনও কারণে হয়ত ধানক্ষেতে জ্ঞান হারিয়েছিলেন চম্পা ওঁরাও। তাই ডাকাডাকি করেও তাঁরা সাড়া পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ যখন পৌছয়, ঘটনাচক্রে তখনই জ্ঞান ফিরে আসে ওই বৃদ্ধের। তাঁকে খাইয়েদাইয়ে বাড়িয়ে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।
ছবি: রতন দে
[কৃত্রিম জোড়া পা নিয়েই বাইকে বিশ্বভ্রমণ, হারতে শেখেননি আসানসোলের বিপিন]