সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিতর্কিত দক্ষিণ চিন সাগর জলসীমা নিয়ে ভারত অন্তত বেজিংয়ের পাশে থাকুক। নরেন্দ্র মোদি যেন অনুগ্রহ করে চিন বিরোধী শক্তিদের সঙ্গে হাত না মেলান, এই অনুরোধ করতে ১২ আগস্ট ভারতে আসছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং য়ি। তিন দিনের ভারত সফরে এসে ওয়াং প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন, আসন্ন সেপ্টেম্বরে জি ২০ বৈঠকে ভারত যেন বিরোধী শিবিরে যোগ না দেয়। বেজিংয়ের একক বিরোধে ভারতের এনএসজি অন্তর্ভুক্তি আটকে দিতে তাদের বাধেনি। অথচ এবার দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে প্যাঁচে পড়ে সেই দিল্লিরই শরণে আসতে হল বেজিংকে।
চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং য়ি মোদিকে অনুরোধ করবেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে চিনে জি ২০ বৈঠকে দিল্লি যেন অন্য দেশের সঙ্গে গলা মিলিয়ে দক্ষিণ চিন সাগর প্রসঙ্গ না তোলে। এমনিতেই দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের দাবিদাওয়া আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যাল উড়িয়ে দিয়েছে। তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক চাপে ক্রমশ জর্জরিত চিনা শীর্ষনেতারা। তাঁদের ভয়, জি ২০-তে আমেরিকা-সহ বেশ কয়েকটি দেশ অস্বস্তিকর প্রসঙ্গটি তুলবে। তাই চিনা বিদেশমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ করবেন, দিল্লি যেন বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নাড়াচাড়া না করে।
দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে জাপান, ফিলিপিনস, তাইওয়ান সহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চিনের তুমুল অশান্তি চলছিল। খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ ওই সাগরের ৯০ ভাগ তাদের বলে দাবি করেছিল চিন। ফিলিপিনস এই নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যালে যাওয়ায় ট্রাইবুন্যাল চিনের দাবি খারিজ করে দেয়। ভারতও এই ইস্যুতে চিনের পাশে দাঁড়ায়নি। কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের কড়া প্রতিক্রিয়াই ভাবাচ্ছে বেজিংকে। ট্রাইবুন্যালের রায় নিয়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া, রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্ত মেনে চলা উচিত সব দেশের। তাদের আশঙ্কা, বেজিংকে বিপাকে ফেলতে দিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দক্ষিণ চিন সাগরের প্রসঙ্গটি তুলবে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও চিনা বিদেশমন্ত্রী দেখা করবেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও।