বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: একই সঙ্গে হৃদযন্ত্রে ভালভ প্রতিস্থাপন ও বাইপাস সার্জারি। না, কোনও বেসরকারি নার্সিংহোমে নয়। নদিয়ার কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল সরকারি হাসপাতালে একান্ন বছর বয়সী একজন রোগীর এই অস্ত্রোপচার করে নজির গড়লেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বেসরকারি হাসপাতালে যা করলে অন্তত চার লক্ষ টাকা খরচ হত, তা এই হাসপাতালে করা হল বিনামূল্যে। প্রায় বারো দিন আগে এই অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে শনিবার বাড়ি গেলেন ওই রোগী।
[ রীতিমতো ইন্টারভিউ নিয়ে কর্মী নিয়োগ, কর্পোরেট ধাঁচে চুরির ব্যবসা হুগলিতে ]
নাম রবি নস্কর। বয়স একান্ন বছর। পেশায় কৃষিজীবী। বাড়ি নদিয়ার গাংনাপুরে। ওই হাসপাতালে শল্য চিকিৎসক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “পরীক্ষার ফলে ওই রোগীর রিউম্যাটিক মাইট্রাল স্টেনশিস ধরা পড়ে। ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষার পর দেখা যায়, তাঁর মাইট্রাল ভালভ খারাপ হয়ে গিয়েছে। এরপর তাঁর করোনারি অ্যাজিওগ্রাফি করে ধরা পরে সেটিও ব্লক হয়ে গিয়েছে।” তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বে একদল শল্য চিকিৎসক ৭ মে ওই হাসপাতালে অত্যন্ত কঠিন অস্ত্রোপচার করেন। একই সঙ্গে হৃদযন্ত্রে ভালভ প্রতিস্থাপন ও বাইপাস সার্জারি। সফলও হন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন ওই রোগী। শনিবার তিনি বাড়ি ফিরে যান।
[ স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে শাশুড়িকে নিয়ে পালাল জামাই! ]
পেশায় কৃষক একজন মানুষ বিনামূল্যে এমন কঠিন অপারেশনর পর বাড়ি ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। শেষ অবধি বিনা খরচায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরে ভীষণ খুশি রবি নস্কর। বলেন, “আমি ভাবতেই পাড়ছি না। বিনা খরচে এত কঠিন অপারেশনের পর আমি বেঁচে বাড়ি ফিরতে পারব। ডাক্তারদের প্রণাম জানাই। শত কোটি প্রণাম আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। ওঁর জন্যই মানুষ সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছি।” চিকিৎসক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় জানান, অপারেশনের পর রোগী বাড়ি ফিরে যাওয়ায় হাসপাতালেরও সুনাম হয়েছে। এখন এই হাসপাতাল থেকে প্রায় নিয়মিত ওপেন হার্ট সার্জারি হচ্ছে।
ছবি- সুজিত মণ্ডল