সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার সকালে ময়দানে ফিরল ৭০ দশকের স্মৃতি। সেসময় ফুটবলার সই করানো নিয়ে ময়দানের দুই প্রধানের মধ্যে রীতিমতো রেষারেষি চলত। এদিন খানিকটা সেই ভঙ্গিতেই ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে চলে এলেন মেহতাব হোসেন। এদিন তাঁর হাতে জার্সি তুলে দেন সবুজ-মেরুন ক্লাবকর্তারা।
বুধবার সকালের ঘটনাটা ছিল অনেকটা এরকম। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মেহতাব দেখেন তাঁর বাড়িতে এসে হাজির হয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের দুই কর্তা। তাঁরা ফুটবলারকে তাঁদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলে যেতে বলেন। মেহতাব তৈরি হয়ে গাড়িতে ওঠেন। ঠিক সেই সময় তাঁর বাড়ি এসে পৌঁছায় মোহনবাগানের গাড়ি। ফুটবল সচিব স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় মেহতাবকে জানান, তিনি যেন সেই গাড়িতে চেপে সোজা বাগান তাঁবুতে হাজির হন। নিজেকে বেশ দিশেহারাই মনে হচ্ছিল মেহতাবের। কিন্তু শেষমেশ সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেন। দশ বছরের মায়া কাটিয়ে নিজের পুরনো ক্লাব মোহনবাগানেই ফেরেন তিনি। ক্লাব তাঁবুতে পৌঁছালে তাঁর হাতে ২৩ নম্বর জার্সি তুলে দেন সচিব অঞ্জন মিত্র। অর্থাৎ ১১ জুন থেকে সবুজ-মেরুন অনুশীলনে ফের পুরনো দলের জার্সি গায়েই মাঠে নামবেন বাঙালি মিডফিল্ডার।
[আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন ‘ক্লান্ত’ ডিভিলিয়ার্স]
অথচ দুদিন আগেও শোনা গিয়েছিল, ঘনিষ্ঠ মহলে মেহতাব নাকি জানিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়েই অবসর নেবেন। তাই বিনা পারিশ্রমিকেই খেলতে রাজি তিনি। কিন্তু কী এমন হল, যাতে রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদল করে ফেললেন মিডফিল্ডার? মেহতাব জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে সমর্থকরা যেভাবে আক্রমণ করেছেন, তা ভাল লাগেনি তাঁর। লাল-হলুদ তাঁবুতে দীর্ঘদিন বড় কোনও ট্রফি না আসায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় মেহতাবকেই। তাই সহ্যের বাঁধ ভাঙে। আর তারপরই এমন সিদ্ধান্ত। মেহতাবের কথায়, “গত বছর ৫০ লক্ষ টাকায় জামশেদপুরে খেলেছি। পৃথিবীর কোনও পেশাদার ফুটবলার বিনা অর্থে খেলতে পারে না।আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চলছিল। আর এবার যখন আমি অর্থ না নিয়ে খেলব বলে নেটদুনিয়ায় কটাক্ষ করা হল, তখন মেনে নিতে পারিনি।”

এদিন সন্ধেয় আবার ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মুখেও একই কথা শোনা গেল। বলে দিলেন, “ক্লাবের আর্থিক অবস্থার শুনে ও নিজেই জানিয়েছিল অর্থ ছাড়াই খেলতে রাজি। ওকে নিতে আমাদেরও কোনও সমস্যা ছিল না। তবে পরে ওর মনে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের থেকে মোহনবাগানই ভাল। তাই ও সেখানে চলে গিয়েছে। আগেও ওর কথাকেই মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, এখনও তাই হল। তবে ওর জন্য ক্লাবের দরজা খোলা কিনা তা সময় বলবে।” তবে যুক্তি পালটা যুক্তি যাই থাকুক না কেন, নিজের নয়া ইনিংস শুরু করে মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে মেহতাবের একটাই অনুরোধ, “প্লিজ আমায় সাপোর্ট করুন। আমি নিজের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।”
[এবার বড়পর্দায় ‘দাদাগিরি’? সৌরভের বায়োপিক নিয়ে জোর জল্পনা বলিউডে]
ছবি: পিন্টু প্রধান